রাজশাহীর বাঘায় বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়ার নামে টাকা নেয়ার পর কার্ড দিতে না পারার এক পর্যায়ে টাকা ফেরত চাওয়ায় ভুক্তভোগীর সন্তানকে মারপিট করেছে এক যুবলীগ নেতা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ওই নেতাকে গণধোলই দিয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার ঝিনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বাঘা থানা সূত্রে জানা গেছে, আড়ানী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম হাইড্রোজ ঝিনা মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী শুকুর জান বেগমকে বয়স্কভাতার কার্ড করে দেয়ার নাম করে ৪ হাজার টাকা নেয়। পরে কার্ড করে না দেয়ায় শুকুর জান বেগমের ছেলে মাহাবুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিকেলে টাকা ফেরত চায়। এ টাকা ফেরত দিতে না চাইলে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে মাহাবুল ইসলামকে মারপিট করে আহত করে যুবলীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম হাইড্রোজ। পরে ঝিনা রেলগেটের মানুষ একত্রিত হয়ে ওই যুবলীগ সভাপতিতে গণধোলাই দেয়।
এ বিষয়ে আড়ানী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম হাইড্রোজ বয়স্ক ভাতার কাড করে দেয়ার নামে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা আমাকে মারপিট করে। এর জের ধরে মাহাবুল ইসলাম আমাকে মারপিট ও হত্যার হুমকি দেয়। ফলে আমি বাদী হয়ে বাঘা থানায় একটি জিডি করেছি। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য কতিপয় নিজ দলীয় ব্যক্তিরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
তবে শুকুর জান বেগম জানান, আমরা হতদরিদ্র মানুষ। দিন এনে দিন খাই। আমার বয়স্কভাতার কার্ড করে দেয়ার নামে ৪ হাজার টাকা নেয় হাইড্রোজ। এ টাকা ফেরত আনতে গেলে আমার ছেলেকে মারপিট করে সে। পরে ঝিনা এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে তাকেও গণধোলাই দেয়। এতে আমি খুশি । পরে পাওনা ৪ হাজার টাকার জন্য আমি থানায় একটি অভিযোগ দেয়।
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহসীন আলী বলেন, ঝিনা এলাকা থেকে পৃথক দুটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
