কক্সবাজার সৈকতে বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে আকরামুল ইসলাম সাজিদ ও আরিফ ইসলাম নামের দুই স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) বিকাল ৫টার দিকে মোটেল শৈবাল পয়েন্ট সৈকতে গোসল করার সময় এ ঘটনা ঘটে।
আকরামুল ইসলাম সাজিদ (১৫) শহরের মধ্যম বাহারছড়ার সাইফুল ইসলামের ছেলে ও আরিফ ইসলাম (১৫) একই এলাকার মৃত মাহবুব আলমের ছেলে। তারা দুইজনই কক্সবাজার শহরের পৌর প্রিপারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জেলা প্রশাসনের সৈকতকর্মী সুপারভাইজার মাহবুব আলম জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে সাজিদ ও আরিফসহ ৭/৮ জন বন্ধু মিলে সৈকতের শৈবাল পয়েন্টে ফুটবল খেলতে যায়। খেলাধুলা শেষে সাগরে গোসল করার সময় আকস্মিকভাবে ঢেউয়ের তোড়ে পানিতে ডুবে যায় সাজিদ ও আরিফ। প্রায় এক ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর লাইফ গার্ড কর্মীরা মুমূর্ষু অবস্থায় সাজিদকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে রাত ৮টার দিকে একই পয়েন্ট থেকে আরিফের লাশও উদ্ধার হয়।
এ নিয়ে, গত ৭ মাসে শহরের সৈকত তীরে গোসল করতে নেমে ১ জন নিখোঁজ ও ৭ জন মারা যায়।
জানা যায়, ১০ অক্টোবর গোসলে নেমে সাগরে ভেসে যায় সাগর নামে এক তরুণ। সে সৈকতে পর্যটকদের ফটো তুলে জীবিকা নির্বাহ করতো। তার বাড়ি উখিয়ার ঘুমধুম কাস্টমস এলাকায়। গত ১১ আগস্ট কক্সবাজার শহরের কলাতলী পয়েন্টে গোসল করার সময় পানিতে ডুবে শাহেদুল ইসলাম (২২) নামের এক যুবক নিখোঁজ হয়ে যায়। এর ৪ দিন পর সোনাদিয়া থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়।
এদিকে, গত ১৮ জুলাই কক্সবাজার শহরের লাবণী পয়েন্ট উপকূলে গোসল করার সময় স্রোতের টানে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ মো. আলী তুহিন (১৫) নামের এক স্কুল ছাত্রের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ মো. আলী তুহিন কক্সবাজার শহরের ৩ নং ওয়ার্ড নুর পাড়া এলাকার মোহাম্মদ হোসেন ও নাসিমা আকতারের ছেলে । তুহিন কক্সবাজার পৌর প্রিপারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
গত ১ জুলাই শহরের লাবণী পয়েন্ট সৈকতে গোসল করার সময় মোহাম্মদ সা’আদ (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। তার বাড়ি রাজধানীর দক্ষিণ খান এলাকায়। এর আগে গত ২৪ এপ্রিল শহরের লাবণী পয়েন্ট সৈকতে গোসল করার সময় চট্টগ্রামের এক পর্যটকের মৃত্যু এবং গাজীপুরের হিমেল আহমদ (২৫) নামের এক পর্যটক নিখোঁজ হয়। ২ দিন পর বাঁকখালী নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।
