এক বিচারককে জেল দেওয়ায় মর্মাহত হয়েছেন অধস্তন আদালতের বিচারকরা। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই মর্মাহতের বিষয়টি জানান অধস্তন আদালতের বিচারকদের সংগঠন জুডিসিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশনের নেতারা। রাজধানীর বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উঠে আসা বিভিন্ন প্রস্তাব প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করা হবে বলে বিচারকদের আশ্বাস দেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের অভিভাবক প্রধান বিচারপতি। তাকে বিষয়টি অবহিত করা হবে। নিশ্চয়ই তিনি একটা সমাধান দেবেন।
আদালত অবমাননার মামলায় অধস্তন আদালতের বিচারক সোহেল রানাকে এক মাসের জেল ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের এই রায়ে সংক্ষুদ্ধ ও মর্মাহত হন অধস্তন আদালতের বিচারকরা। মাঠ পর্যায়ের বিচারকদের দাবির প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে রাতেই বৈঠকে বসেন জুডিসিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশনের নেতারা। নের্তৃবৃন্দ ছাড়াও ঢাকা ও আশপাশের জেলার কিছু বিচারক এতে যোগ দেন।
বৈঠকে উপস্থিত বিচারকরা আইনমন্ত্রীকে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আমাদের অভিভাবক। আমরা বিচার বিভাগের সদস্য। সংবিধান ও আইনের আলোকে বিচার কাজ করাই আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় আমাদের ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে অভিভাবক হিসাবে সুপ্রিম কোর্ট আমাদের ভুলভ্রান্তিগুলো নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করে সংশোধনের সুযোগ দেবেন সেটাই প্রত্যাশা করি। যাতে করে ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনে আমরা সচেষ্ট হতে পারি।
বিচারকরা মন্ত্রীকে আরো বলেন, দন্ডিত বিচারক দুই দফায় নি:শর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। উচ্চ আদালত ক্ষমার আবেদন গ্রহন করে সংশ্লিষ্ট বিচারককে ক্ষমা করে দিতে পারতেন। এমনকি বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ দেওয়ারও সুযোগ হাইকোর্টের সামনে ছিলো। জেল ও জরিমানার পরিবর্তে ভিন্ন আদেশ দিলে অধস্তন আদালতের বিচারকরা সবচেয়ে উপকৃত হতেন। বৈঠক সূত্রে এসব জানা গেছে।
বৈঠকে আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, এসোসিয়েশনের সভাপতি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এএইচএম হাবিবুর রহমান, মহাসচিব ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানসহ প্রমুখ বিচারকরা উপস্থিত ছিলেন।
