রাজনৈতিক উত্তাপ মিলিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও উত্তেজনাকর দ্বৈরথের নাম ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ। সেই দ্বৈরথটা যদি হয় বিশ্বকাপে, তাহলে তো কথাই নেই। যদিও বিশ্বকাপে কখনোই ভারতকে হারাতে পারেনি পাকিস্তান, তবে মাঠের বাইরে উত্তেজনায় কমতি থাকে না।
২০২৩ বিশ্বকাপে আজ সেই ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ। আহমেদাবাদে দুই বৈরী প্রতিবেশীর দলীয় লড়াইয়ে অনেক খণ্ড যুদ্ধও থাকবে। সেই তারকা বনাম তারকার যুদ্ধে বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে রোহিত শর্মা বনাম বাবর আজম এবং জসপ্রিত বুমরাহ বনাম হাসান আলির লড়াই।
রোহিত বনাম বাবর
দুজনেই বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। দুজনের কাঁধেই নিজ নিজ দলের অধিনায়কত্বের ভার। অধিনায়ক হিসেবে পরিচালনা করার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দলকে পথ দেখানোর দায়িত্ব তাদের কাঁধে। এবারের বিশ্বকাপটা রোহিত শর্মা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডাক মেরে শুরু করলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন। শচীন টেন্ডুলকারকে পেছনে ফেলে গড়েছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির (৭টি) রেকর্ড। বিশ্বকাপে মোট ১৯ ম্যাচ খেলে ৭টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৩টি হাফসেঞ্চুরিও আছে রোহিতের, করেছেন মোট ১১০৮ রান। ১৯ ইনিংসের মধ্যে ১০ বারই ৫০ ঊর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন। তার ৭টিতে রূপ দিয়েছেন সেঞ্চুরিতে। এতেই স্পষ্ট, রোহিত সেট হয়ে গেলে প্রতিপক্ষের বিপদ নিশ্চিত।
বাবর আজমের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যদিও পাকিস্তান অধিনায়কের এবার শুরুটা ভালো হয়নি। নেদারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছেন ৫ ও ১০ রানের ইনিংস। তারপরও তার দল দুই ম্যাচেই জিতেছে সতীর্থ ব্যাটারদের ব্যাটে চড়ে। আজ নিশ্চয় বাবরের পালা! মাঠের বাইশগজি সীমানায় কী ঘটবে, সেটা সময়ই বলবে। তবে বাবর আজম নিশ্চিতভাবেই আজ বাড়তি সতর্ক হয়ে নামবেন। ওয়ানডের ব্যাটিং র্যাংকিংয়ের এক নম্বরে থাকা বাবর টানা তৃতীয় ম্যাচে ব্যর্থ হয়ে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে চাইবেন না কিছুতেই। বিশ্বকাপে ১০ ম্যাচে ৪৮৯ রান করা বাবর আজ বিশেষ কিছু করার চেষ্টা করবেন। সব মিলে দুই অধিনায়কের লড়াইটা জমে উঠতে পারে।
বুমরাহ বনাম হাসান আলি
নিশ্চিতভাবেই ভারতের বোলিং আক্রমণের নেতা জসপ্রিত বুমরাহ। পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের নেতা শাহীন শাহ আফ্রিদি। সেই হিসেবে পেস আগুনের লড়াইটা তাদের দুজনের মধ্যেই হওয়ার কথা। তবে এবারের বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স এবং অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আজ বুমরাহর সঙ্গে মূল লড়াইটা হতে পারে হাসান আলির। এবারের বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত যে দুটি করে ম্যাচ খেলেছে ভারত ও পাকিস্তান, সেই দুই ম্যাচে বুমরাহ এবং হাসান আলিই নিজ নিজ দলের সফল বোলার। দুজনেই দুই ম্যাচে নিয়েছেন ৬টি করে উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২ উইকেট নেওয়া বুমরাহ আগুন ঝরিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে নিয়েছেন ৪ উইকেট। হাসান আলিও তাই। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২ উইকেট, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ৪ উইকেট।
২৯ বছর ৩১২ দিন বয়সি বুমরাহ বিশ্বকাপে মোট ১১ ম্যাচে নিয়েছেন ২৪ উইকেট। ২৯ বছর ১০৪ দিন বয়সি হাসান আলি এখানে পিছিয়ে। বিশ্বকাপে মোট ৬ ম্যাচে মাত্র ৮ উইকেট তার। এর ৬টিই এবার, দুই ম্যাচে। নাসিম শাহর চোটের কারণে হুট করেই বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়ে হাসান আলি প্রমাণ করছেন যে, তাকে ডেকে নির্বাচকরা ভুল করেননি। তাছাড়া আজ প্রতিপক্ষ যেহেতু ভারত, অনুপ্রেরণা পেতে হাসান আলি তাকাতে পারেন ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের দিকে। দলকে সেদিন শিরোপা জেতাতে ১৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে ভারতকে গুঁড়িয়ে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। আজও সেই আগুনের স্ফুলিঙ্গই ঝরবে হাসানের বলে!
