‘দিদিকে বলো’-তে অভিযোগ করায় বৃদ্ধ দম্পতিকে মারধর

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৩, ১১:৫৮

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিযোগ জানানোর জেরে বৃদ্ধা দম্পতিকে মার খেতে হয়েছে। তাদের অভিযোগ, রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের লোকজন এই কাজ করেছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গে ‘দিদিকে বলো’ বলে একটা কর্মসূচি আছে। যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রশাসনিক বিষয়ে অভিযোগ জানাতে পারে জনসাধারণ। ২০১৯ সাল থেকে চলছে এই কর্মসূচি। পাঁচ লাখ মানুষ তাদের অভিযোগ জানিয়েছেন। ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মেনে এই প্রকল্প চালু হয়েছিল।

সেখানেই নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন অলোক মজুমদার নামে এক বৃদ্ধ। তারপরই ১০০ স্ত্রী ও পুরুষকে নিয়ে তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী তাকে ও তার স্ত্রীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কাউন্সিলরের স্বামী বলেন, ‘এই অভিযোগ মিথ্যা। অলোক মজুমদার নর্দমা পরিস্কার করতে দেন না। ডেঙ্গু হচ্ছে বলে তা পরিস্কার করে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন তিনি।’

এলাকাবাসীর বক্তব্য, উত্তর দমদম পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে উত্তর প্রতাপগড় এলাকার কিছু পরিবার বিরোধী দলের সমর্থক। তার মধ্যে মজুমদার পরিবারও আছে। সেখানকার কয়েকটি পরিবার ‘দিদিকে বলো’-তে ফোন করে নিকাশী ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ জানান। তারপরই ইঞ্জিনিয়ার এসে সব দেখে যান। ‘দিদিকে বলো’-এর নিয়মানুযায়ী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগকারীকে জানানো হয় কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অভিযোগ, ইঞ্জিনিয়ার আসার পর ক্ষুব্ধ হন তৃণমূল কাউন্সিলারের স্বামী।

অলোক মজুমদারের বলেছেন, ‘বিজেপি সিপিএমের ভোটার থাকায় রাস্তা হয় না। তাদের ওয়ার্ডে কাজ হয় না। ‘দিদিকে বলো’তে অভিযোগ জানানোর পর আমার স্ত্রীকে মারধর করা হয়। আমাকেও মারে। আমরা খুব ভয়ে আছি।’

বিজেপির নেতা কিশোর করের অভিযোগ, ‘বিরোধী প্রার্থীকে ভোট দেয়ার অপরাধে সেখানে সব কাজ বন্ধ। রাস্তায় জল। নিকাশীর চেষ্টা নেই। দিদিকে বলোতে অভিযোগ করা হয়েছে বলে মারধর করা হচ্ছে। বাড়িতে গিয়ে হামলা হয়েছে।’

ইত্তেফাক/এমটি/এইচএ