টং দোকানে শারীরিক প্রতিবন্ধীর মানবেতর জীবন

  • হামলা চালিয়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ মামলা করায় হত্যার হুমকি
আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৩, ১৬:৫০

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার ছোট বড়াই গ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল জলিলের (৭৩) প্ৰায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করে বসতঘর ভেঙে নিয়ে যাওয়াসহ তাকে বাড়ি ছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে তার ভাই-ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। বৃদ্ধ আব্দুল জলিল ও তার পরিবারের লোকজন গত প্রায় চার মাস ধরে নিজ বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে রেললাইনের পাশে সরকারি জমিতে একটি পরিত্যক্ত টং দোকানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ ঘটনায় পাগলা থানায় একটি মামলা হলেও আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে মামলা প্রত্যাহার না করলে একেবারে জানে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে ।

মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, শারীরিকভাবে পঙ্গু মো. আব্দুল জলিল তার যুবক বয়সে প্রায় ৫০ বছর আগে জীবিকার তাগিদে নিজ গ্রাম ছেড়ে ঢাকা চলে যান । রাজধানীর মিরপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসা করতেন তিনি। ২০১৭ সালে তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আসেন । পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতঘর নির্মাণ করার সময়ই তার ভাই আবুল কালাম, এস এম সাত্তার, ভাতিজা শফিকুল ইসলাম কাজল ও মিঠু তার বসতঘর নির্মাণে বাধা দেয়। পরে স্থানীয় সালিশে বাড়ির ভিটায় ৩০ শতাংশ জমির প্রাপ্যতা বুঝে পান। এরপর থেকেই তার ভাই-ভাতিজারা তাকে নানাভাবে হয়রানি শুরু করে।

গত ২০ জুন দুপুর ১২টার দিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবুল কালাম, তার ছেলে কাজল ও মিঠুর নেতৃত্বে আরো ১০-১২ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী আব্দুল জলিলের বাড়িতে হামলা করে সাড়ে ৫ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করে, বাড়ির নারীদের মারধর, শ্লীলতাহানি করে, শিশুদের মারধর করে বসতঘর ভেঙে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দেয়। এরপর থেকে আব্দুল জলিল, তার স্ত্রী লজ্জাতুন্নেছা ও তার তিন নাতিসহ বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ঢাকা- ময়মনসিংহ রেললাইনের পাশে একটি পরিত্যক্ত টং দোকানে বসবাস করছেন।

অসহায় আব্দুল জলিল সংশ্লিষ্টদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না।

আব্দুল জলিল বলেন, 'আমি আমার ও আমার পরিবারের লোকজনের ওপর নির্মম অত্যাচারের সুষ্ঠু বিচার চাই।'

আব্দুল জলিলের ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম সাত্তার বলেন, আব্দুল জলিলের জমি থাকলেও জমিগুলো তার দখলে নেই। স্থানীয় পাইথল ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব ঢালী স্বীকার করেন, আব্দুল জলিলের বাড়িঘর তার শরিকের লোকজন ভেঙে উচ্ছেদ করে দিয়েছে ।

পাগলা থানার ওসি রাজু আহম্মেদ বলেন, এ মামলায় চার্জশিট হয়েছে। চেষ্টা করেছিলাম ভাইয়ে ভাইয়ে যাতে বিরোধ না হয়। কালাম ও তার ভাইদের জন্য পারিনি ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবিদুর রহমান বলেন, আব্দুল জলিল তার পরিবারের লোকজন যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা চায় তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতা করা হবে।

ইত্তেফাক/এএএম