বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি রোগীদের প্রায় অর্ধেকই কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভোগেন বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৪৮.৪ শতাংশ রোগী মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। সবচেয়ে এলার্মিং হল বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি রোগীদের মধ্যে মাত্র ৩.৬ শতাংশ রোগীকে মনোরোগ বিদ্যা বিভাগে রেফার্ড করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত ‘সাইক্রাট্রিক মরবিটিস অ্যান্ড এডমিটেড প্যাশেন্ট’ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। গবেষণার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে একটি ডিসিমেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ। গবেষণাটি ৩৪৭ জনের ওপর করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ১৬৮ জন (৪৮.৪ শতাংশ) কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছেন। তাদের মধ্যে ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ পুরুষ ও ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ নারী।
গবেষণায় দেখা বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি মানসিক ডিস অর্ডার রোগীদের মধ্যে ৫৪.৮ শতাংশ পুরুষ ও ৪৫.২ শতাংশ নারী। ভর্তি রোগীদের বয়সের রেঞ্জ ৫১-৬৫ বছরের মধ্যে ৩৩.৩ শতাংশ রোগী এবং ৩১-৪০ বছরের রোগীদের মধ্যে ১৯ শতাংশ মানসিক রোগে আক্রান্ত। মেডিসিন অনুষদের ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৫৫.৩ শতাংশ এবং সার্জারি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি ৩৯.৩ শতাংশ রোগী মানসিক রোগে ভোগেন।
এ গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক (৪৮.৪ শতাংশ) কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছেন। এদের মধ্যে ১.৭ শতাংশ রোগীকে মানসিক চিকিৎসার জন্য অন্য বিভাগ থেকে মনোরোগবিদ্যা বিভাগে পাঠানো হয়। ৭.৮ শতাংশ রোগী তাদের রোগ সম্পর্কে জানেন এবং ১৭.৩ শতাংশ রোগী বিভিন্ন ধরনের মানসিক রোগের ওষুধ খেয়ে আসছেন। মেডিসিন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি রোগীদের ৬৫ শতাংশের মধ্যে মানসিক রোগ শনাক্ত করা গেছে। সার্জারি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি রোগীদের মধ্যে মানসিক রোগীর হার ৩৫ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

