‘মানুষের গল্পই বলার চেষ্টা করেছি’

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৪৮

সঞ্জয় সমাদ্দার। টলিউডে বাংলাদেশি নির্মাতারা কাজ করেছেন এর আগেও। তবে তারা মূলত এদেশ থেকে ওপারে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য দেশ ছেড়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশি নির্মাতাকে টলিউডের কোনো সুপারস্টার প্রডিউস করার ঘটনা বিরল। সেই অনন্য সম্মানের কাজটিই করলেন সঞ্জয়। জিত্ নিজের ছবি পরিচালনা করালেন তাকে দিয়ে। ছবির নাম ‘মানুষ’। ছবিটি নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ এম রুবেল


আপনার ‘মানুষ’ সিনেমার প্রকাশ পেয়েছে। দর্শকদের আগ্রহ কেমন দেখতে পাচ্ছেন?

সবাই যেভাবে সিনেমাটিকে পজিটিভলি নিয়েছে তাতে আমি খুবই আনন্দিত। তবে এটুকু বলতে পারি, টিজারের থেকে ট্রেলার এবং ট্রেলার থেকে সিনেমা আরও ভালো হবে। কারণ সিনেমাটিতে শক্তিশালী একটি গল্প রয়েছে।

সিনেমাটির গল্পে কোন বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে?

দেখুন, এখনই সব বলে দিলে তো চমক তেমন কিছু থাকবে না। সিনেমার নাম যেহেতু মানুষ সেহেতু মানুষের গল্পই বলার চেষ্টা করেছি। তবে গল্পটিতে থ্রিলারও রয়েছে!

সিনেমাটিতে যুক্ত হওয়ার গল্পটি শুনতে চাই—

আমি জিত্ দা’কে গল্পটি হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করি। তখন উনি ন্যারেশন করার জন্য যেতে বলেন। এরপর সেখানে গিয়ে ন্যারেট করি। তারা আমার বিগত সময়ের বেশকিছু কাজ দেখেন। সে সময় তারা বলেন, কাজটি ওখানে করলে আমি রাজি কি-না! আমি ভেবে দেখলাম, জিত দার মতো সুপারস্টারের সঙ্গে কাজের সুযোগ পাচ্ছি। এভাবেই আসলে কাজটির সঙ্গে যুক্ত হওয়া।

জিত ও মীমকে নিয়ে কাজ করেছেন। অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

প্রথমত, জিত দা অসাধারণ অভিনেতা, অসাধারণ মানুষ। আর মীমও খুব ভালো অভিনেত্রী।  সব মিলিয়ে কাজের অভিজ্ঞতাও দারুণ ছিল।

কিন্তু ওটিটির জন্যও তো নীতিমালা তৈরি কথা শোনা যাচ্ছে। এতে স্বাধীনতা খর্ব হবে কি-না?

যেকোনো শিল্প মাধ্যমকেই একটা নিয়মের বেড়াজালে আটকে দেওয়া ঠিক না। তবে হ্যাঁ, নীতিমালা থাকতেই পারে। কিন্তু নীতিমালা করার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গনের গুণীজনদের মতামত নিয়ে করলে সেটা শিল্পবান্ধব হবে বলে আমি মনে করি।

দেশে সব মাধ্যমেই কাজ করেছেন। এবার ওপার বাংলায়ও যাত্রা শুরু করলেন। দুই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের অভিজ্ঞতা এবং পার্থক্য কেমন চোখে পড়েছে?

দেখুন, আমার মনে হয় দুই জায়গাতেই প্রতিভাবান অনেকে কাজ করছেন। খুব বেশি পার্থক্য চোখে পড়েনি। তবে ওখানে সবাই সময়টাকে মূল্য দেয়। এটা আমার কাছে বিশেষ মনে হয়েছে।

সিনেমাটি কবে নাগাদ দেশের দর্শকরা দেখতে পাবেন?

কলকাতায় তো সিনেমাটি আসছে ২৪ নভেম্বর মুক্তি পাবে। তবে এখানে কবে মুক্তি দেবো সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এর বাইরে ওপার বাংলার নতুন কোনো কাজে যুক্ত হয়েছেন কি-না?

না, আপাতত তেমন কোনো খবর নেই। ভালো কোনো কাজের সুযোগ পেলে অবশ্যই করবো। বর্তমানে দেশের বেশ কয়েকটি কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। যেগুলো ধারাবাহিকভাবে শেষ করতে চাই।

কিছু সিনেমা হলে দর্শক টানলেও সেই ধারাবাহিকতা থাকছে না। এর কারণ কী?

দর্শকরা সবসময়ই একটা ভালো গল্প দেখতে চায়। আমরা যদি নতুন গল্প, অভিনয় এবং নির্মাণ দিতে পারি তাহলে দর্শক হলে আসবেই।

ইত্তেফাক/এমএএম