মাদারীপুরে মদপানে দুই বান্ধীর মৃত্যু ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার রাতে নিহত পারুল আক্তার উর্মির বাবা আব্বাস বেপারী বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলটি দায়ের করেন। পরে সোমবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ৫ জনকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি (অপারেশন) মো. সেলিম মিয়া জানান, পহেলা অক্টোবর মাদারীপুর শহরের কলেজ রোড এলাকার লুৎফর রহমান মোল্লার বাসার ৪তলা ভাড়া নেয় সাগরিকা আহম্মেদ নামে এক নারী। সাগরিকার সাথে তার মা সাবিনা ইয়াসমিন ও মামা বাবু থাকতেন। শনিবার রাতে সাগরিকার বান্ধবী ডালিয়া ও পারুলসহ ৪জন রুমের ভেতর প্রবেশ করে। পরে মদপান করে রুমে থাকে সবাই। অতিরিক্ত মদপানে রুমের ভেতরেই মারা যায় সাগরিকা। এ সময় গুরুতর অসুস্থ হয় আরও ৩ জন। তাদেরকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাগরিকার বান্ধবী পারুলকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহত সাগরিকার মা সাবিনা ইয়াসমিন, মামা তোফাজ্জেল হোসেন বাবু, সাগরিকার স্বামী মজিবুর বয়াতী, ডালিয়া বেগম ও বাসার কেয়ারটেকার হেলাল সরদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।
এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া আটক ৫ জনকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়। নিহতের ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তীতে আইনতগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সন্দেহভাজন আটকরা হলো নাটোরের লালপুরের পোকগা গ্রামের মৃত মন্নান মন্ডলের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন পান্না (৪০) ও ছেলে তোফাজ্জেল হোসেন বাবু (৩৫), মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বাঘুরিয়া গ্রামের ইয়াদ আলী মাতুব্বরের স্ত্রী ডালিয়া বেগম (৪৫), শহরের আমিরাবাদ এলাকার মফেজ বয়াতীর ছেলে মজিবুর রহমান বয়াতী (৪৮) ও কলেজ রোড এলাকার হাসান সরদারের ছেলে হেলাল সরদার (৪৫)।
নিহত দুইজনের পরিচয় হলো সাগরিকা আহম্মেদ (২৭) শহরের উকিলপাড়া এলাকার কেএইচ শাকিল আমম্মেদ সাগরের মেয়ে ও পারুল আক্তার উর্মি (২২) নতুন মাদারীপুর গ্রামের আব্বাস বেপারীর মেয়ে। এদিকে এই ঘটনায় পুরো জেলাজুড়ে সৃষ্টি চাঞ্চল্য।
