আজ ১ কার্তিক। বাংলা পঞ্জিকাবর্ষ অনুযায়ী শরৎকাল। দরজায় কড়া নাড়ছে হেমন্তের নবান্ন। শান্ত ও নীরব প্রকৃতি। নদী-নালা ও খালে-বিলে কমতে শুরু করেছে বর্ষার পানি। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দিনের বেলা তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
এদিকে, শীত আসতে দেরি নেই। ফলে প্রকৃতিতে শীতের আভাস কুয়াশা এসে হাজির। এরই মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে ভোরের সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে মিষ্টি রোদ আর সবুজ ঘাসের পাতার ওপর বিন্দু বিন্দু শিশির কণা। সেই কণাগুলোর নিবিড় শব্দ মনে করিয়ে দিচ্ছে, শীত আসছে। শরতের বিদায় হতে না হতেই হেমন্তকে পাশ কাটিয়ে যেন আগাম বার্তা দিচ্ছে শীত। সন্ধ্যা হতেই শীত অনুভব হচ্ছে দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী ফুলবাড়ী উপজেলায়। সীমান্তবর্তী এই উপজেলা ভারতের হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় অক্টোবরেই আগাম শীতের আমেজ দেখা মিলেছে।
দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতু বৈচিত্র্যের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে সন্ধার পর পর বৃষ্টির পানির মতো আকাশ থেকে শীত পড়ছে। সকাল আটটা থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত দেখা মিলছে ঘন কুয়াশারও।
এ অঞ্চলে কিছু দিন আগে টানা বৃষ্টির পর বইছে হিমেল হাওয়া, সঙ্গে শুরু হয়েছে কুয়াশা। ফসলের মাঠে উঁকি দিচ্ছে নতুন বীজের প্রস্ফূটিত চারা। তাতে শিশির বিন্দু ছড়িয়ে দিচ্ছে মৃদু শীতলতা। এদিকে, শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রান্তিক চাষিরা। কোমর বেঁধে ফসলের মাঠে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, টমেটো, লাল শাকসহ বিভিন্ন ধরনের আগাম শীতকালীন সবজি চাষবাদ করতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে গত এক সপ্তাহ থেকে মধ্য রাতের পর থেকে ঘনকুয়াশা পরছে। এই কুয়াশা সকাল নয়টা পর্যন্ত বিভিন্ন গাছ ডগা ও ধান ক্ষেতে শিশির জমে থাকার দৃশ্য দেখা গেছে। রাতে সব বয়সের মানুষদের শরীরে হালকা কাঁথা ও কম্বল জড়াতে হচ্ছে। এই অঞ্চলে আগাম শীতের দেখা পাওয়ায় পুরো শীতকাল আসা মাত্রই শীতের তীব্রতা বেড়ে যাবে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘টানা এক সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। মূলত পৌষ-মাঘ এই দুই মাস শীতকাল ধরা হলেও এ বছর আশ্বিন-কার্তিকের দিকেই শীতের আগমনী বার্তা। তাই শীতকাল আসা মাত্রই এ বছর শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে।’
