এবি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই আইয়ুব বাচ্চুর গিটার থেকে শুরু করে নানা স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এর ভেতরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাকে নিয়ে স্মৃতি জাদুঘর, তার স্মরণে কনসার্ট এবং সম্মাননা প্রদানের বিষয়টি।
আজ আইয়ুব বাচ্চুর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী। এই ৫ বছরে আইয়ুব বাচ্চুর গান ও তার শ্রোতা-দর্শকদের কৌতুহল বা আগ্রহের এতটুকুও কমতি হয়নি, বরং বেড়েছে ক্রমশ। এদিকে এবি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতি সংরক্ষণ থেকে শুরু করে রকলিজেন্ডকে নিয়ে সারাবছর বিভিন্ন ইভেন্টের আয়োজন নিয়ে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের কথা শোনা যাচ্ছিল। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথেই নতুন এক সূচনা তৈরি হলো।
এ উপলক্ষে গত ১৭ অক্টোবর এশিয়াটিকের সাথে একটি চুক্তি গড়েছে এবি ফাউন্ডেশন। যেখানে উপস্থিত ছিলেন আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা, এলআরবির সদস্য আব্দুল্লাহ মাসুদ ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল মোর্শেদ। এশিয়াটিকের পক্ষ থেকে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্তাব্যক্তি বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব সারা যাকের ও প্রখ্যাত অভিনেতা-সংগঠক ইরেশ যাকের।
চুক্তি প্রসঙ্গে ফেরদৌস আক্তার চন্দনা বলেন, ‘এবি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই আইয়ুব বাচ্চুর গিটার থেকে শুরু করে নানা স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এর ভেতরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাকে নিয়ে স্মৃতি জাদুঘর, তার স্মরণে কনসার্ট এবং সম্মাননা প্রদানের বিষয়টি। এছাড়াও আরও কিছু প্ল্যান নিয়ে আলাপ হয়েছে এই চুক্তি অনুষ্ঠানে। আমি শুধু এটুকুই বলবো, এশিয়াটিকের মতো প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ এভাবে এগিয়ে আসার জন্য।’
ইরেশ যাকের বলেন, ‘মূলত এবি ফাউন্ডেশনের অনেকগুলো পরিকল্পনার সাথে আমরা সহযাত্রী হিসেবে কাজ করবো। আর বাচ্চু ভাই আমাদের প্রাণের মানুষ। আমরা তার গান শুনেই বড় হয়েছি। ব্যক্তিগতভাবেও নিবিড় সম্পর্ক ছিল আমাদের। নতুন প্রজন্মের কাছে তার গান গুলো পৌঁছে দেওয়া। বা নতুন ভয়েসে আইয়ুব বাচ্চুর গানগুলো আবারও নতুনভাবে উপস্থাপনসহ অনেককিছুই পরিকল্পনায় রয়েছে। সবকিছু নিয়েই আমরা কাজ করবো। সেটারই একটি শুভ সূচনা হলো।’
আইয়ুব বাচ্চুর ছায়াসঙ্গী এলআরবির গিটারিস্ট আব্দুল্লাহ মাসুদ বলেন, ‘এবি ফাউন্ডেশনের জন্য আমরা গত কয়েক বছর ধরেই কাজ করছি। অনেককিছু পরিকল্পনা করে গুছিয়ে নিয়েছি। প্রয়োজন ছিল সঠিক পৃষ্ঠপোষকতার। সেদিক থেকে এশিয়াটিকের সাথে এই চুক্তি আমাদের স্বপ্নগুলো ধরতে সাহায্য করবে। একই সাথে আইয়ুব বাচ্চুর অগণিত ভক্তদের জন্য এটি বিরাট একটি সুসংবাদ বলে মনে করি।’
এদিকে আজ দেশের এই রক আইকনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার শামীমসহ চট্টগ্রাম মিউজিক অ্যাসোসিয়েশন ও আইয়ুব বাচ্চুর অনুরাগী মিউজিশিয়ানরা একসাথে হয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করছে প্রতিবছরের মতোই।

