টকশোতে নিজের চেহারা অন ক্যামেরায় কম দেখানোয় সাংবাদিককে ডেকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক রিপন গাজীর বিরুদ্ধে। দেশ রুপান্তরের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক জিহাদ তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক।
গত ১৪ অক্টোবর জাতীয় দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার অনলাইন টকশো ‘চাকরিতে বয়সের প্রাসঙ্গিকতা’ নিয়ে কথা বলতে উপস্থিত ছিলেন ‘চাকরির বয়স ৩৫ আন্দোলন’ এর আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক রিপন গাজী।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জিহাদ অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রিপন গাজী দৈনিক কালবেলা পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক আকরাম হোসেনকে দিয়ে মগবাজারের মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কমপ্লেক্সের পাশে অন্ধকার গলিতে তাকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে বন্দুক দিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় আকরাম হোসেনও ওই নেতার পক্ষ নিয়ে তাকে (জিহাদ) শাসান। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তার ওপর আক্রমণ শুরু করেন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা রিপন গাজী। অতর্কিত এই হামলায় তার গায়ের পরিহিত পোশাক ছিঁড়ে ফেলেন এবং তাকে শারীরিকভাবে আহত করেন।
এই মুহূর্তে আমি আমার জীবন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছি, তাই ১৭ অক্টোবর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।’ হাতিরঝিল থানার সাব-ইন্সপেক্টর ইদ্রিস আলী সাংবাদিক জিহাদের সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. আওলাদ হোসেন বলেন, ‘একজন সাংবাদিক জিডি করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাকে ডাকা হয়েছে। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসব বিষয়ে রিপন গাজীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি এমন কিছু করিনি। আমি মর্নিং টাইমস পত্রিকার সম্পাদক। জিহাদ আমার অফিসে এক মাসের বেশি সময় কাজ করেছেন। তার সঙ্গে অন্য একটা বিষয় নিয়ে ঝামেলা ছিল। সেটা নিয়ে কথা বলার জন্য ডেকেছিলাম।
এই বিষয়ে অপর অভিযুক্ত কালবেলা পত্রিকার সাংবাদিক আকরাম হোসেন বলেন, ‘জিহাদ আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্টের ছোট ভাই। তার সঙ্গে আমার প্রতিদিনই দেখা হয়। এই হুমকির বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
রিপন গাজীর বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি গাজী মেজবাহুল হোসেন সাচ্চু ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘রিপন গাজীর বিষয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। তিনি কোন পদে আছেন খতিয়ে দেখছি। তিনি সংগঠনের কেউ হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
