নাজিরপুরে শেখ রাসেল দিবস পালন না করে এক শিক্ষকের মানববন্ধন

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৩, ১৯:৫১

পিরোজপুরের নাজিরপুরে শেখ রাসেল দিবস পালন না করে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানিকর ও মিথ্যা অভিযোগ এনে মানববন্ধন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মানববন্ধনের প্রধান আয়োজক নাজিপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়েরর সহকারী শিক্ষক এইচএম লাহেল মাহামুদ। বুধবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে নাজিরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

বুধবার (১৮ অক্টোবর) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের এই দিনে জাতির পিতার স্মৃতি বিজড়িত ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে জন্ম নেন শেখ রাসেল। ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট ঘাতক চক্রের নির্মম বুলেটের হাত থেকে রক্ষা পায়নি বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল। 

মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শহীদ শেখ রাসেলকে স্মরণ করতে এই দিনটি শেখ রাসেল দিবস হিসাবে পালিত হচ্ছে। অথচ সেই দিনে অভিযুক্ত শিক্ষক লাহেল মাহামুদ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে শেখ রাসেল দিবসকে উপেক্ষা করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধ মানববন্ধন করেন। 

জানা গেছে, অনুপ কুমার সিকদার (দৈনিক ইত্তেফাক), শফিকুল ইসলাম সোহেল  (দৈনিক সংবাদ),  মো. হাসান তালুকদার (দৈনিক মানবজমিন), এস এম জাহিদ হক (দৈনিক ইনকিলাব) এবং মো. মশিউর রহমান (দৈনিক যায়যায় দিন) সাংবাদিকের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদের সামনে মিথ্যা ভিত্তিহীন ও মানহানিকর একটি মানববন্ধন করেন। 

উল্লেখ্য, উপজেলার দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদদাতা অনুপ কুমার সিকদারকে কুরূচিপূর্ণ ভাষায় গালাগালি ও হত্যার হুমকি দেওয়ায় তিনি বাদী হয়ে নাজিরপুর থানায় গত ১২ অক্টোবর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়রি করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে ১৫ ই অক্টোবর উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে সকাল ১১টায়  ঘণ্টাব্যাপী উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক ও সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ ব্যাপারে নাজিরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. ছিদ্দিকুর রহমান তুহীন জানান, গত ১৫ ই অক্টোবর ইত্তেফাক সাংবাদিকসহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিকদের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকরা এবং সর্বস্তরের জনগণ একটি মানববন্ধন করেছেন। তবে আজকের মানববন্ধনের কথা আমি জানি না।
  
এ বিষয়ে নাজিপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমাকে তার মুঠোফোনে বার বার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাহিদুল ইসলাম বলেন, এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্যারকে বলেন, তিনি আমাকে যে ব্যবস্থা নিতে বলবেন আমি সেই ব্যবস্থা নিব।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ইদ্রিস আলী বলেন, আমি বিষয়টি আপনার কাছে শুনলাম, তদন্ত করে দেখব।

ইত্তেফাক/পিও