‘আমি জানতাম না যে, ওটাই মৃণালের বাড়ি!’

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৯:২৫

আমরা সচরাচর যে চরিত্রগুলো করি সেগুলো কিন্তু বায়োপিক থেকে আলাদা। বায়োপিকে অভিনয়ে সমস্যা হচ্ছে হুবহু সেই চরিত্রের মতো হতে হয়। না হলে দর্শকদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এটা একজন শিল্পীর জন্য বাড়তি একটা চাপ। বঙ্গবন্ধু এবং মৃণাল সেনের বায়োপিকে অভিনয় করতে গিয়ে আমার এমনটাই মনে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে হয়তো ছোট একটা চরিত্রে অভিনয়ের কারণে হয়তো তত বেশি চাপ যায়নি।

আমার প্রেশারটা গেছে মৃণাল সেনের বায়োপিকটি করতে গিয়ে। তার জীবন, পার্সোনালিটি, কাজ, ভাষাগত দক্ষতা, বাংলাদেশ থেকে কলকাতা, পরবর্তীতে বোম্বে গিয়ে কাজ করা এবং পৃথিবী ঘুরে বিভিন্ন চলচ্চিত্র উত্সবে বিচরণ—সবকিছু এই বায়োপিকের ভেতর আনতে হয়েছে। শুধু দেখতে এক রকম হলেই কিন্ত হয় না। দেখতে হয়তো হুবহু এক রকম লাগলো, কিন্তু ওই ব্যক্তির চলাফেরা, স্মার্টনেস, কথাবার্তা, ব্যক্তিত্ব এগুলো তো দেখার মাঝে সীমাবদ্ধ না। এগুলো চাল-চলনে প্রকাশ করতে হয়।

আমাকে ৩ মাস পড়াশোনা করতে হয়েছে মৃণাল সেনকে ধারণ করতে। তবু হয়তো যারা মৃণালকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তারা বলবেন, মৃণাল তো এভাবে চলতেন না, কথা বলতেন না বা এই জায়গাটায় মৃণালের মতো হয়নি। এগুলো মাথায় নিয়েই বিখ্যাত কারও চরিত্রে কাজ করতে হয়।

মৃণাল এবং বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের শ্যুটিং করতে গিয়ে অনেক স্মৃতি জমা হয়েছে। মৃণাল সেনের বায়োপিকের শ্যুটিং করেছি কলকাতা, মুম্বাই, পুনে এবং ইতালির ভেনিসে। এমনকি শেষ দৃশ্যগুলো মৃণালের বাড়িতে শুটিং করেছি। উনি যে বিছানায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন সেই দৃশ্যটি আমি সেই বিছানাতেই করেছি।

যদিও শুরুতে আমি জানতাম না সেটা তার নিজের বাড়ি! সেখানে একটি রিডিং রুমে হাজার হাজার বই রয়েছে। অনেক পুরস্কার-সম্মাননা রয়েছে। যে পুরস্কারগুলোর মাঝে এফডিসির একটি পুরস্কার ছিল। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম আর্ট ডিজাইন। পরে যখন সৃজিত দা’কে বললাম, এই ডিজাইনটা তো অনেক ভালো হয়েছে। তখন দাদা বললেন, এটা আর্ট ডিজাইন না। এটা তো ওনার বাড়ি!

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক করতে গিয়েও দারুণ কিছু অভিজ্ঞতা জমা করেছি অর্জনের ঝুলিতে। মুম্বাইয়ে আমি হোটেল থেকে যখন শ্যুটিংস্পটে নামলাম তখন মনে হলো আমি এ কোন গ্রামে চলে এলাম। গ্রাম বলতে, রাস্তা-ঘাট, দোকান, বাজার, গাছপালা সবই ছিল। তারপর হাঁটতে হাঁটতে আরও ভেতরে গিয়ে দেখলাম বঙ্গবন্ধুর টুঙ্গিপাড়ার বাড়ি। সামনে বিশাল একটা আম গাছ। শ্যুটিংয়ের জন্য গাছটি তুলে আনা হয়েছে। বিষয়টি সত্যি অদ্ভুত লেগেছিল। সেট মানে পুরো গ্রাম বানিয়ে ফেলেছিল। কাজের ক্ষেত্রে ওরা অনেক বেশি প্রফেশনাল! এই সিনেমাগুলো নির্মাণ কেন জরুরি? এই সিনেমাগুলো নির্মাণ করায় অথেন্টিক একটা ইতিহাস থেকে যাচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।

ইত্তেফাক/এএম