শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য দ্রব্যমূল্য অনিয়ন্ত্রণে কাজ করছে কেউ কেউ। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে। চাকরিজীবি, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তের জন্য এখন দ্রব্যমূল্য অসহনীয় হয়ে উঠছে।
সোমবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে ভোক্তা-অধিকার নিশ্চিতে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির যৌথ আয়োজনে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, কর্পোরেট কোম্পানিগুলো যেন বোয়াল মাছ, গজার মাছের মতো সব খেয়ে ফেলতে চায়। ছোট বড় পণ্য থেকে শুরু করে মিডিয়া, সংবাদপত্র সবই তাদের নিয়ন্ত্রণে। কালোবাজারিরা সরকারের চেয়েও ক্ষমতাবান। আমাদের আমদানি নীতিতে কিছু ভুল আছে। চোরা ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগ নেয়। শাস্তি দিতে গেলেই তারা নানা যুক্তি তুলে ধরে। বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতা রয়েছে, এটা অস্বীকার করা যায় না।
তিনি বলেন, কিছু কিছু ব্যবসায়ী আছে তারা শুধু টাকা টাকা করে। যেখানে আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশে বৈদেশিক মূদ্রা প্রেরণ করছে, সেখানে এক শ্রেণির ব্যক্তি দেশের টাকা লুট করে আমেরিকা, কানাডায় বাড়ি, গাড়ি করছে। আমাদের অনেক উন্নয়ন হলেও মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। দেশের প্রতি ভালোবাসা, নৈতিকতা ও মমত্ববোধ থাকতে হবে। তাহলেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে আমরা জনগণের মধ্যে স্বস্তি আনতে পারবো। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করার জন্য ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকারদের মতো জাতীয় পুরস্কার প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমানে প্রচলিত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনটি সংশোধন ও সময়োপযোগী করার উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করা গেলে ভালো হয়। অবৈধ মজুদদারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। তবে জেল জরিমানা বা পুলিশ দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা কোনো সমাধান নয়। ব্যবসায়ীদের সততা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধই ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। এর জন্য সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে গণজাগরণ তৈরি করতে হবে।
‘ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণই ভোক্তা-অধিকার নিশ্চিত করতে পারে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে তেজগাঁও কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক মো. তৌহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক সায়েদুল ইসলাম, সাংবাদিক দৌলত আক্তার মালা প্রমুখ। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলকে ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
