মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া এবং গরুর চর্মরোগ লাম্পি ভাইরাসের টিকা গবেষণায় সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ভারত বায়োটেক। নতুন এই টিকা তৃতীয় ট্রায়াল শেষে অনুমোদন পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারত বায়োটেক কর্তৃপক্ষ। এর আগে করোনা মহামারীর মধ্যে দ্রুততম সময়ে কোভ্যাক্সিন টিকা আবিষ্কার করে ভারতের এই প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি ভারত বায়োটেকের কার্যালয় পরিদর্শন করে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের একটি দল। দলটির কাছে প্রতিষ্ঠানটির নানা কার্যক্রম তুলে ধরেন কর্তপক্ষ।
কয়েক বছর ধরে ভারতে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে পশুর চর্মরোগ লাম্পি ভাইরাস। পক্সের মতো এই রোগটি গত বছর বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ে। কৃষকের ভয়াবহ ক্ষতি ঠেকাতে লাম্পি ভাইরাসের টিকার অনুমোদন এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান ভারত বায়োটেক কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ জানান, ভারত বায়োটেক অসংক্রামক রোগ ক্যানসার এবং ডায়াবেটিসের টিকা আবিষ্কারেও অনেক দূর এগিয়েছে। টিবি ভ্যাকসিনেরও ট্রায়াল চলছে, জিকা ভাইরাস নিয়ে গবেষণাও শেষ পর্যায়ে। এ ছাড়া স্বল্পসম্পদ ব্যবহার করে সাশ্রয়ী টিকা আবিষ্কারের চেষ্টাও চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। শিশুদের ডায়রিয়া রোধে রোটা ভাইরাসের টিকার ডোজ কমিয়ে আনাতেও ভূমিকা রেখেছে ভারত বায়োটেক। এই গবেষণায় তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আইসিডিডিআরবিতে কর্মরত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ডা. ফেরদৌসী কাদরি। তারা রোটাভ্যাকের ডোজ আড়াই মিলি থেকে হাফ মিলিতে (.৫০) নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। এতে পরিবহন খরচ ও উৎপাদন খরচ যেমন কমে যায়, তেমনি শিশুদের ওপর ওষুধের কার্যকারিতা বেড়ে যায়।
ভারত বায়োটেকের উদ্ভাবন করা ১৯টি ভ্যাকসিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহার হচ্ছে। এসব ভ্যাকসিনের মধ্যে চারটি ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
ভারত বায়োটেক কর্তৃপক্ষ জানান, করোনা মহামারী মোকাবিলায় মানুষের ইনজেকশন-ভীতি দূর করার উদ্যোগ নেয় তারা। নাকে ব্যবহারের একমাত্র করোনা টিকা আবিষ্কার করে প্রতিষ্ঠানটি। কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, বিশ্বে এ পর্যন্ত যেসব কোভিড ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়েছে এর মধ্যে কোভ্যাক্সিন সবচেয়ে নিরাপদ। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মাত্র ১৫ শতাংশ, যেখানে অক্সফোর্ড, মডার্নার টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ৭০ শতাংশ।
১৯৯৬ সালে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের জেনম ভ্যালিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারত বায়োটেক। এর চেয়ারম্যান ড. কৃষ্ণা এম এলা জন্মগতভাবে ভারতের নাগরিক। তবে লেখাপড়া ও গবেষণা কাজের সূত্রে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব নেন। পরে স্ত্রী সুচিত্রা এলাসহ ফিরে এসে ভারতের নাগরিকত্ব ফেরত নেন। টিকা নিয়ে গবেষণার নেতৃত্বও দেন তিনি। বিশেষ করে করোনা মহামারীতে অক্সফোর্ড, অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্নার মতো ভ্যাকসিনের পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে কোভ্যাক্সিন আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দেন তিনি।
ভারত বায়োটেক কর্তৃপক্ষ জানান, ড. কৃষ্ণা এম এল্লার কোম্পানিতে এখন কয়েক হাজার মানুষ কাজ করেন। শুধু ভারত বায়োটেকে দেড় হাজারের বেশি কর্মী রয়েছে। এ ছাড়া বেশকিছু সিস্টার কনসার্ন আছে বায়োটেকের। ভারত বায়োটেকের বিনিয়োগ ৩৫ লাখ ডলারের বেশি।
