‘অদৃশ্য অপশক্তি আমাকে ফিল্ম থেকে বাদ দিয়ে দেয়!’

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:৪৭

মুকিত জাকারিয়া। কর্পোরেট ক্যারিয়ারের খোলস থেকে বেরিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর টিভিসির মাধ্যমেই তার তারকাখ্যাতি। কিন্তু নিজেকে বিস্তৃত রেখেছেন এখন অভিনয়ে। সম্প্রতি অঞ্জন আইচের ৫ টি নাটকের কাজ শেষ করে দেশে ফিরলেন। নিজের অভিনয় জীবনের ১৪ বছর পার করলেন এই গুণী অভিনেতা। কথা বললেন ইত্তেফাকের সাথে। 

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরলেন। দেশের বাইরে নাটকের কাজ। অভিজ্ঞতা কেমন হলো?

ভালো-মন্দ মিলিয়েই হয়েছে। প্রথমত খুবই ব্যয়বহুল সিটি। তাই সেখানে আমাদের অনেককিছু হিসেব করেই কাজ করতে হয়েছে। তবে কাজের ক্ষেত্রে বৈচিত্র আনতেই লোকেশন পরিবর্তনের  এধরণের পরিকল্পনাকে আমি সাধুবাদ জানাই। অঞ্জন আইচের নির্দেশনা খুবই গোছানো। সবমিলিয়ে অভিজ্ঞতা মন্দ না।

এখন অনেকেই ইউটিউব নির্ভর কাজের প্রতি অনীহা প্রকাশ করছে। ওটিটি বা ফিল্মের প্রতিই সবার আগ্রহ বেশি— 

দেখুন, এটা হয়েছে কিছু নির্মাতা ও অভিনেতার জন্য। আমি এর আগেও এসব ডাবল মিনিং বা অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমি সবসময় বলে যাবো। আমি এমন অনেক কাজ ফিরিয়ে দিয়েছি, যেখানে ডাবল মিনিং বা অশ্লীল ডায়লগ ছিল। কিন্তু তথাকথিত কিছু নির্মাতা বা কিছু অভিনয়শিল্পী এই ট্রেডটার বারোটা বাজিয়েছে। কিছুদিন আগে আমি একটি কাজে বিমানে করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাচ্ছিলাম। তো বিমানটি ল্যান্ড করার সময় এক বয়স্ক ভদ্রলোক আমার দিকে এসে অনেকটা ধমকের সুরেই বললেন, ‘এই যে আপনাদের নাটকে এত গালাগালি থাকে কেন? আমরা পরিবার নিয়ে দেখতে পারিনা!’ আমি চুপ হয়ে গেলাম। আমার নিজের অভিনীত কোনো নাটকে কিন্তু এ ধরণের অভিযোগ পাওয়া যাবে না। কিন্তু যেহেতু এই ইন্ডাস্ট্রির অংশ হিসেবে আমিও রয়েছি। তাই এইসব অপবাদ মাথা পেতে নিতে হয়। বিব্রত হই তখন। লজ্জা পাই। কিন্তু আমার প্রশ্ন যারা করে, তারা কি বিব্রত হয়?

আপনার অভিনয় জীবনের ১৪ বছর পার করলেন। এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে টিভি বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। অনেক জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন। কিন্তু ফিল্মে আপনাকে সেভাবে পাওয়া যায়নি। কেন?

অনেক দুঃখের সাথেই বলতে হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাকে বাদ দেয়া হয়েছে। এমন অনেক কাস্টিংয়ে পরিচালক আমার সাথে কথা বলেছেন, সাইনিং মানির কনফার্ম করেছেন। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য অপশক্তি আমাকে ফিল্ম থেকে বাদ দিয়ে দেয়। বারবার এ ঘটনা ঘটে। আমি নিরাশ হই না। ক্ষোভও জাগে না। শুধু ওপরওয়ালার কাছে প্রশ্ন রাখি। কেন? আমাকে যারা এরকম ক্ষতি করার চেষ্টা করে। তারা আবার বাইরে বা বিভিন্ন পার্টিতে আমার সামনেই হাসে, আমাকে জড়িয়ে ধরে। একসময় এসব দেখে অবাক হতাম। এখন আর হইনা। অভ্যেস হয়ে গেছে। মেনে নিই যে, এরকম মানুষ সমাজে থাকবেই। 

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এখন কোন পথে হাঁটছে বলে মনে করেন? আপনি কতটা আশাবাদী?

আমি তো এখনকার নির্মাণের ব্যাপারে প্রচণ্ড আশাবাদী। বিভিন্ন ওটিটি প্লাটফর্মে একঝাঁক নির্মাতারা যুথবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন। ফারুকী ভাই শুরু করলেন ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’, ওদিকে শাওকী ও কয়েকজন নির্মাতাকে নিয়ে শুরু করেছেন। কান উত্সব, বুসান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে শুরু করে বিশ্ব চলচ্চিত্রে আমাদের ফিল্ম নিয়ে কথা হচ্ছে। এটা দারুণ আনন্দের ঘটনা। তাই আমি খুব আশাবাদী। প্রচলিত সিন্ডিকেট যেমন থাকবে। এর ভেতরে মেধাবী নির্মাতারাই আবার এসব ভেঙে চুরমার করে নতুন পথ তৈরি করবেন।

আসছে কোন চলচ্চিত্রে আপনাকে দেখতে পাবো—

এখনও চুড়ান্ত না। ফারুকী ভাইয়ের নেক্সট প্রজেক্টে থাকতে পারি। কিছুদিন আগে আশফাক নিপুণ আমাকে বললেন, একটা চরিত্রে তিনি আমাকে নিয়ে ভাবছেন। দুজনই আমার খুব প্রিয় নির্মাতা। তাই কাজগুলো করতে চাই। অপেক্ষায় আছি।

ইত্তেফাক/এএম