সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

আর্জেন্টাইনদের চোখে এখনো মারাদোনা ‘জীবিত’: আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৩, ১৫:৪১

ধানমন্ডিতে নিজেদের মাঠে আবাহনীর ফুটবলাররা অনুশীলনে নেমে গেছেন। সাইড লাইনে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টাইন কোচ আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি। নতুন ম্যানেজার জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার নজরুল ইসলাম। নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। তাদের কাছে এগিয়ে যেতেই দূর থেকে হাই-হ্যালো বলেই কাছে টেনে নিলেন। কথায় কথায় একাধিক সাংবাদিকের নাম তুললেন ক্রুসিয়ানি। অনেকের নাম স্মরণ করলেন। প্রয়াত ফুটলার গোলাম রব্বানী হেলাল, বাফুফের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক মুসাব্বির আল সাদী, বাফুফের প্রয়াত মিডিয়া ম্যানেজার অমিতসহ আরও বেশ কিছু নাম নিজেই তুললেন। 

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে খুব ভালো সখ্য ছিল ক্রুসিয়ানির। কথায় কথায় উঠে আসে মারাদোনার নাম। নীরব হয়ে যান ক্রুসিয়ানি। ২৫ নভেম্বর ২০২০ সালে মারা যান দিয়েগো মারাদোনা। যেদিন মারাদোনার মৃত্যুর খবর আসে, তখন ক্রুসিয়ানি বুয়েন্স এইরেসে নিজ ঘরে ছিলেন। দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় টিভির খবরে দেখতে পান মারাদোনা আর নেই। কথাগুলো বলছিলেন ক্রুসিয়ানি। বললেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারিনি, মারাদোনা নেই। প্রথমে ভুল তথ্য মনে হচ্ছিল। পেলে অসুস্থ ছিল তখন। তখন সব জায়গা থেকে মারাদোনার মৃত্যুর খবর ধেয়ে আসছিল। বন্ধুরা ফোন করে জানাচ্ছিলেন। কেউ জানতে চাইছিলেন, ভুল শুনছি কি না। আমরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর শোনার প্রস্তুতি আমাদের ছিল না।’ 

মারাদোনার কথা মনে পড়ে কি না—এমন প্রশ্নে ক্রুসিয়ানি বললেন, ‘মারাদোনা এখনো আমাদের কাছে বেঁচে আছেন। দিয়েগো এখনো আমাদের কাছে জীবিত। তার কথা মনে হলে এখনো আমাদের চোখে পানি আসে। একটা গোষ্ঠী আছে, তারা দিয়েগোকে ভালোবাসে না। সেই খারাপ মানুষগুলোর সংখ্যা কম। আমরা সেই মানুষকে ভালোবাসি না। কোনো গোষ্ঠীর কথা বলা হচ্ছে, যারা দিয়েগো মারাদোনাকে ভালো বলে না। কারণ কী? বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই কোচ বলেন, ‘ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে মিশেছে। মার্কিনিদের সঙ্গে দূরত্ব ছিল। দিয়েগো সব সময় মানবতার পক্ষে ছিলেন। এ কারণে অনেকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না। পৃথিবীর বড় শক্তিকে তিনি পাত্তা দিতেন না। এসব কারণে আর্জেন্টিনার একটা গোষ্ঠীর কাছে মারাদোনা পছন্দের তালিকায় নেই। যারা মারাদোনাকে ভালোবাসে না, আমরা সেই সব মানুষকে পছন্দ করি না।’ 

মারাদোনার বিষয়ে দিয়েগো ক্রুসিয়ানির কথা পরিষ্কার, ‘আমরা ভাবিনি দিয়েগো এত তাড়াতাড়ি পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন। মারাদোনা সারা জীবন আমাদের কাছে ফুটবলের ঈশ্বর হয়ে থাকবেন।’ আবার আবাহনীতে আসা প্রসঙ্গে ক্রুসিয়ানি বললেন, ‘রুপু ফোন করেছিল। তাই আবার এসেছি—কথাগুলো বলতে বলতে মাঠের দিকে তাকিয়ে হঠাত্ বললেন, ‘আমি যাই। কাজ করতে হবে। আবার দেখা হবে।’ ছুটে গেলেন মাঠে, মিশে গেলেন খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলনে। ৬১ বছর বয়সী ক্রুসিয়ানির শরীরটা একটু ভার মনে হলেও ফুটবলাদের কৌশল বোঝাতে গিয়ে নিজেই ছুটেছেন, এই বয়সেও ফিটনেস কম না। ক্রুসিয়ানি এবার আর্জেন্টিনা থেকে ফিটনেস কোচ ব্রুনোতে। গত মৌসুমে ঢাকায় সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের কোচ ছিলেন ক্রুসিয়ানি।

ইত্তেফাক/জেডএইচ