জম্মু-কাশ্মীরে পাক গোলাবর্ষণ: যেভাবে জীবন বাঁচিয়েছে বাসিন্দারা

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৩, ১৬:০৭

জম্মু ও কাশ্মীরের আরনিয়া সেক্টরে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোলাবর্ষণ করেছে পাকিস্তান। শুক্রবার ভোর ৩টা পর্যন্ত গোলাবর্ষণ অব্যাহত ছিল। এই পরিস্থিতিতে বুল্লেহ চাকের সীমান্ত গ্রামে লোকজন জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, একতা নামের এক নারী ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘প্রথমে সীমিত গুলি চালানো হয়েছিল। তারপরে (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টায় একটি বড় মর্টার শেল আমাদের বাড়িতে আঘাত করে। রান্নাঘরের ক্ষতি হয়... সমস্ত কাচের জানালা ভেঙে যায় (কিন্তু) ঈশ্বরের কৃপায় আমরা বেঁচে গেছি...।’

গ্রামের সরপঞ্চ দেব রাজ চৌধুরী এএনআইকে বলেছেন, একতাকে এবং তার পরিবার গোলাগুলির মধ্যে তাদের বাড়িতেই রাত কাটিয়েছে। আর ভগবানকে ডেকেছেন যেন তাদের ওপর কোনো মর্টার না পড়ে।

অন্য বানিন্দারা এএনআইকে বলেছেন, তারা হামলায় বিধ্বস্ত বাঙ্কারগুলোতে আশ্রয় চেয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বাঙ্কারগুলো একদম খালি। এখানে বিশেষ কোনো নিরাপত্তা সুবিধা নেই। বাঙ্কারের গায়ে অসংখ্য বুলেটের গর্ত রয়েছে। তবুও যখনই এদিকে গোলাগুলি হয় তখনই এই বাঙ্কারগুলোর দিকে ভয় পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে আসেন।

তারা আরও বলেছেন, ‘এই বাঙ্কারগুলো বেশ বড়... তাই এগুলো নিরাপত্তার জন্য ভালো। হঠাৎ করে, (যখন) রাতে গুলি শুরু হয় আমরা এখানে আসি। বাঙ্কারগুলো আমাদের সাহায্য করে। যখন আমাদের বাড়িতে গোলাবর্ষণ হয় তখন এখানে নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারি। বাঙ্কার আমাদের জীবন বাঁচায়।’

এক ভিডিওতে একটি ছোট কংক্রিটের দেয়াল ঘেরা ঘরের দেয়ালে ময়লা এবং একাধিক জায়গায় প্লাস্টারের খোসা দেখা গেছে। মেঝেটিস পানিতে প্লাবিত এবং দাগযুক্ত মনে হচ্ছে।

একজন বাসিন্দা বলেছিলেন, তাদের নিরাপত্তার জন্য বাঙ্কারগুলো প্রয়োজন। কিন্তু তিনি আরও বলেছেন, ‘গত কয়েক বছরে খুব বেশি গুলি চালানো হয়নি, তাই আমাদের এখানে আসার দরকার ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই গত রাতে আমাদের আসতে হয়েছিল এবং আমরা দেখতে পেলাম যে বাঙ্কারগুলো প্লাবিত এবং গুলিবর্ষণের মাঝেই কাউকে বাইরে দাঁড়িয়ে বাঙ্কার খালি করতে হয়েছিল। সৌভাগ্যক্রমে আমরা সবাই বেঁচে গেছি।’

অন্য একজন বাসিন্দা বলেছেন, তিনি মনে করেন মানুষকে বাঁচাতে এই ধরনের আরও বাঙ্কার প্রয়োজন।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় গোলাগুলি শুরু হয় এবং উভয় পক্ষই মর্টার শেল নিক্ষেপ করার পর বিকট বিস্ফোরণ হয়। ভারত বলেছে, ২০২১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি চুক্তির পর থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তে গোলাগুলি ছিল সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন।

গত সপ্তাহে, সেক্টরে পাক গুলিতে দুই সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আহত হন। তবে ওই সময় বিএসএফ ও পাকিস্তান রেঞ্জার্সের স্থানীয় কমান্ডারদের মধ্যে পতাকা বৈঠকের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ইত্তেফাক/এসএটি