নিজ হাতে করা কবরস্থানে দাফন করা হয়নি সৈয়দ আবুল হোসেনকে

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৩, ২১:৪০

সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ও মাদারীপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আবুল হোসেনকে শেষবারের মত এক নজর দেখতে তার জানাজার জন্য পূর্বনির্ধারিত গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের ডাসারে শুক্রবার সকাল থেকেই হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও এলাকাবাসী ভিড় জমায়। 

তবে তার স্ত্রী ও সন্তানদের সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত সাবেক এই মন্ত্রীর মরদেহ ডাসারে না এনে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে শ্বশুরবাড়ি সিরাজগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানেই জানাজা শেষে এই মহান নেতার দাফন সম্পন্ন করা হয়। সৈয়দ আবুল হোসেনের মরদেহ মাদারীপুরের ডাসারে না আনায় দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। চোখের জল মুছতে মুছতে অনেকে ভারাক্রান্ত মনে বাড়ি ফিরে যান। 

এই নেতার জানাজায় অংশ নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ ও আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এসে পরে ঢাকা ফিরে যান । সৈয়দ আবুল হোসেন মৃত্যুর আগে বাড়ির পাশেই মার্বেল পাথর দিয়ে সুরম্য কবরস্থান বানিয়ে গিয়েছিলেন। সেটি দেখেই শেষ পর্যন্ত ফিরতে হয় আগতদের।

জানা যায়, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন থাইল্যান্ডে চিকিৎসা শেষে গত মঙ্গলবার দেশে ফেরেন। ঢাকার গুলশানের বাসায় পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় অসুস্থ বোধ করেন। পরে তাকে পরিবারের সদস্যরা ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাত দুইটার দিকে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার দক্ষিণ ডাসার বেতবাড়ি গ্রামের সৈয়দ আতাহার আলীর ছেলে সৈয়দ আবুল হোসেন ১৯৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশায় একজন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী ছিলেন। সৈয়দ আবুল হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মাদারীপুর-৩ আসন থেকে ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি সপ্তম, অষ্টম ও নবম সংসদ নির্বাচনেও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরমধ্যে ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপরে তিনি অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। ফলে অনেকেই তাকে বিদ্যাসাগর খেতাবও দিয়েছেন। 


স্থানীয় রোকেয়া বেগম বলেন, নারী শিক্ষায় তার অবদান অবিস্মরণীয়। তার মত মানুষকে হারিয়ে আমরা বাকরুদ্ধ। তাকে শেষ বারের মত এক নজর দেখতে এসেছিলাম তা আর হলো না।

স্থানীয় আনায়ার হোসেন বলেন, তিনি নিজে মার্বেল পাথর দিয়ে নিজের কবর তৈরি করে গেছেন। সেখানে তাকে কবর দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হলো না। নিজ জন্মভূমিতে তাকে জানাজাও দেওয়া হলো না। এতে আমরা খুবই মর্মাহত। তাকে এক নজর দেখতে আমার মত হাজার হাজার মানুষ এখানে এসেছে। এখন সবাই চোখের জল মুছতে মুছতে ঘরে ফিরে যাচ্ছে।

সৈয়দ আবুল হোসেনের ছোট ভাই ডা. সৈয়দ হাসান বলেন, কথা ছিল সিরাজগঞ্জে জানাজা শেষে তার মরদেহ ডাসারে আনা হবে। এখানে বাদ জুম্মা জানাজা শেষে দাফন করা হবে। তিনি নিজে কবর তৈরি করে রেখেছেন। ওছিয়ত করে গেছেন। আমি তার স্ত্রী ও সন্তানদের একথা বলেছিলাম তবুও তারা আমার কথা শুনেনি। আমার আর কিছুই বলার নেই আল্লার কাছে তার রুহের জন্য দোয়া চাওয়া ছাড়া।

স্থানীয় সংসদ সদস্যও ড.আবদুস সোবাহান গোলাপ বলেন, আসলে এসব বিষয়ে পারিবারিক সিদ্ধান্তই বড় ব্যাপার। ধর্মীয় বিষয়, সেনসিটিভ ইস্যু। পারিবারিক সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একজন মানুষের মৃত্যুর পর কোথায় তার জানাজা হবে, কোথায় দাফন করা হবে এটা সম্পূর্ণই তার পরিবারের সিদ্ধান্ত। তার পরিবারের সিদ্ধান্ত হলো দুই জায়গায় জানাজা হবে না। সিরাজগঞ্জে পীরের বাড়িতেই তার জানাজা শেষে দাফন হবে। ওখানে দাফন করা হলে আমাদের ধর্মীয় মতে সোয়াব নিয়মিত পেতে থাকবে। যদি একটি দরবার শরীফের পাশে কবর দেওয়া হয়। আর আবুল হোসেন সাহেবের ভাই, ভাতিজাসহ অন্যান্য আত্বীয় স্বজন যারা আছে তার চেয়েছিল তিনি এলাকায় খুবই জনপ্রিয় মানুষ। এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক কিছু করেছেন তাই ডাসারে দাফন হলেই ভালো হয়।

ইত্তেফাক/এবি