বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

মোবাইল-ব্যাগ চেক করছে পুলিশ, অনেকেই আটক

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৩, ১৩:০২

সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ে আজ শনিবার দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ করবে বিএনপি। অপরদিকে বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটের সামনে আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ। এছাড়া বড় দুই দলের সমাবেশ ছাড়াও রাজধানীতে আরও ১১ সমাবেশ আজ।

এসবসমাবেশকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে রাজধানীতে জড়ো হচ্ছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের কর্মী-সমর্থকরা। সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকায় আসা যাত্রীদের মোবাইল, ব্যাগ চেক করছে পুলিশ। এতে সাধারণ যাত্রীরাও হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ।

শনিবার রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় দেখা গেছে, লঞ্চে সমাবেশের উদ্দেশ্যে আসা যাত্রীদের সংখ্যাই বেশি। অধিকাংশ যাত্রীকে খালি হাতে দেখা গেছে। তাদের তল্লাশি করা হচ্ছে।

বরিশাল থেকে অনেক জামায়াতের নেতা-কর্মী শাপলা চত্বরে সমাবেশে যোগ দিতে এসেছেন লঞ্চযোগে। 
তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, লঞ্চ থেকে নামার পর পরেই আমাদের অনেকের মোবাইল চেক করেছে পুলিশ। তাদের কাছে বাড়তি কোনো ব্যাগ না থাকায় পুলিশ জিজ্ঞাসা করছে 'খালি হাতে কেন ঢাকায় আসছেন'।

বিএনপির কর্মী পরিচয় দেওয়া একজন জানালেন, মহাসমাবেশের উদ্দেশ্যে ঢাকায় এসেছেন। তিনি সদরঘাট থেকে নামার পর সাথে থাকা ছোট ব্যাগ চেক করেছে পুলিশ। কোনো কিছু না পেলেও নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় তাকে। অনেকটা সময় তাকে জেরা করে, আটকে রেখে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশি চলাকালে সাভারের আশুলিয়া ও ধামরাই থেকে শনিবার সকালে শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করার খবর পাওয়া যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে এ সংখ্যা বাড়তে পারে। ঢাকার প্রবেশমুখ আমিনবাজারে ঢাকামুখী সব গণপরিবহনকে ঠেকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।

কেউ কেউ অভিযোগ করেন, জিজ্ঞাসাবাদের নামে অযথাই হয়রানি করা হচ্ছে। পুলিশ সদস্যরা তাদের মুঠোফোন চেক করছেন। তবে পুলিশের দাবি, যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের আটক করা হচ্ছে।

একইভাবে আমিনবাজারে পুলিশ সদস্যর পাশাপাশি অসংখ্য সাদা পোশাকের পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা তল্লাশি করছেন। পরিবহন থেকে নামিয়ে যাত্রীদের গন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হচ্ছে। হেঁটে যাওয়া পথচারীদেরও একইভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেউ সদুত্তর দিতে না পারলে তাকে আমিনবাজার ২০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে রাখা হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক মানুষকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আটকদের মধ্য থেকে ইতিমধ্যে ৭৩ জনকে গাড়িতে করে সাভার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইত্তেফাক/এসকে