মাদারীপুরে আড়িয়াল খাঁ নদে শনিবার (২৮ অক্টোবর) বিকালে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পঙ্খিরাজ, টিয়াঠোড়ি, বাচারী এমন বাহারী ১১টি নৌকার অংশগ্রহণে মাদারীপুরের চরমুগরিয়া ও হাজরাপুরের যুব সমাজ ও স্থায়ীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
যা দেখতে নদের দুইপাড়ে ভীড় জমান হাজার হাজার দর্শক। পড়ন্ত বিকালে শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সের মানুষের যেন মিলনমেলায় পরিণত হয় নদীর দুই পাড়।
জানা গেছে, মাঝিমাল্লার হাতে থাকা বৈঠা চলছে সমানতালে সঙ্গে হৈহুল্লোড় হইচই। কাঁসার ঘণ্টার টুংটাং শব্দ। শনিবার পড়ন্ত বিকালে আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সের মানুষ। কেউবা আবার ট্রলারে করে উপভোগ করে এই নৌকাবাইচ। সংস্কৃতি আর গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখতে মাদারীপুরের চরমুগরিয়া ও হাজরাপুরের যুব সমাজ ও স্থায়ীয় এলাকাবাসির উদ্যোগে এই বাইচের আয়োজন করা হয়। লক্ষীগঞ্জ ব্রিজের নিচ থেকে হাজরাপুর ব্রিজে গিয়ে শেষ হয়। এই এলাকা জুড়ে চলে বাইচ। যা দেখে আনন্দে মেঠে ওঠেন দর্শকরা।
অংশ নেওয়া ১১টি নৌকার মধ্যে বাজিতপুরের প্রশান্ত ওঝা প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৩২ সিফটি ফ্রিজ, দ্বিতীয় পুরস্কার পান কোটালিপাড়ার কালিপদ তালুকদার পান ২৮ সিফটি ফ্রিজ ও তৃতীয় পুরস্কার পান বাজিতপুরের মজিবর শেখ একটি ৩২ ইঞ্চি টেলিভিশন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার বিতরণ করেন মাদারীপুরের চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডিস্ট্রিজের সভাপতি হাফিজুর রহমান জাচ্চু খান। পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি আলাউদ্দিন বেপারীর সভাপতিত্বে ও রাস্তি ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইদ্রিস শিকদারের সার্বিক সহযোগিতায় এ সময় নৌকা বাইচে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক আতাউর রহমান রুবেল মুন্সি, হাজরাপুরের হাবিব বেপারী, স্থানীয় ইউপি মেম্বার গোলাম মওলা ফকির, আবুল বাসার, সুমন বেপারী, রাস্তির যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ ফকির, পুটিয়ার মোখলেস ফকির, জাহাঙ্গীর আকন, অ্যাডভোকেট রিয়াদ মোল্লা, মফিজ তালুকদারসহ স্থানীয় লোকজন।
আয়োজক ইদ্রিস শিকদার বলেন, ইতিহাস আর ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে নৌকা বাইচের বিকল্প নেই। নৌকা বাইচকে ঘিরে নদের দুইপাড়ে বসে হরেক রকমের দোকান। খাবার ও খেলনাসহ বিভিন্ন দোকানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরগরম। যা দেখতে নদের দুইপাড়ে ভীড় জমান হাজার হাজার দর্শক। নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
