ভাড়া চাওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অটোচালককে মারধরের অভিযোগ

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৩, ১৮:১২

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে বকেয়া ভাড়া চাওয়ায় অটোচালককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। 

শনিবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেনের কাছে পাওনা টাকা চাওয়ায় উপজেলার বেলতৈল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অটোচালকের নাম শুক্কুর প্রামাণিক (৪০) । তিনি ওই চেয়ারম্যানের প্রতিবেশী ও বেলতৈল গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে। প্রথমে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে চিকিসাধীন।

জানা গেছে, শুক্কুর প্রমাণিক একজন তেল ব্যবসায়ী। কিন্তু মাঝে মাঝে অটোও চালান। একই গ্রামে বাড়ি হওয়ায় চেয়ারম্যান শওকত হোসেন অনেক সময় শুক্কুরের অটো গাড়িতে চলাচল করেন। খুচরা টাকা না থাকার অজুহাতে ওই চেয়ারম্যান অনেক সময় টাকা না দিয়েই চলে যান। এভাবে বেশ কিছু ভাড়ার টাকা শুক্কুর ওই চেয়ারম্যানের কাছে পান। শনিবার চেয়ারম্যান অন্য একটি অটোতে যেতে দেখেন শুক্কুর। এ সময় তিনি পাওনা টাকা চান। এ নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান শুক্করকে একটি চড় মেরে সেখান থেকে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পরেই চেয়ারম্যানের লোকজন শুক্কুরকে মারতে মারতে চেয়ারম্যানের বাড়িতে নিয়ে যায়। এ সময় চেয়ারম্যান, তার ছেলে, ভাতিজাসহ কয়েকজন মিলে শুক্কুর আলীকে বেধড়ক মারধর করেন। শক্কুর আলীর অবস্থার অবনতি হলে শওকত চেয়ারম্যান তখন কাজিপুর থানা পুলিশকে ফোন করেন। খবর পেয়ে ওইদিন বিকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। আঘাত গুরুতর হওয়ায় তারা শুক্কুরকে গ্রহণ না করে স্বজনদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। 

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যানের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে সমালোচনার ঝড় বইছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওই চেয়ারম্যান এর আগেও মানুষকে নানা কারণে নিজ হাতে পিটিয়েছেন। সে সময় এমন একটি ভিডিও সোসাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিলো। 

শুক্কুরের স্ত্রী জোসনা খাতুন জানান, আমরা গরিব মানুষ। চেয়ারম্যানের সঙ্গে পারমু না। আমি এই মারধরের বিচার চাই।

অভিযুক্ত শওকত হোসেন বলেন, আমার গ্রাম পুলিশের সঙ্গে শুক্কুরের কথা কাটাকাটি হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হলে আমি শুক্কুর প্রামাণিককে ধমক দিলে সে আমার হাতে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়। এইটুকুই। আর কিছু হয়নি।

কাজিপুর থানার ওসি শ্যামল কুমার দত্ত জানান, খবর পেয়ে অফিসার পাঠিয়ে ভুক্তভোগীকে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/পিও