রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অঙ্ক

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৩, ১১:০১

কাগজে-কলমে এখনও বেঁচে আছে সম্ভাবনা। হিসাবের নিয়ম তো মানতেই হবে! ‘মহান অনিশ্চয়তার খেলা’ ক্রিকেটে কত মিরাকলই তো ঘটে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের খেলাটা ওই ‘মিরাকল’-এর ওপরই দাঁড়িয়ে। ‘যদি’, ‘কিন্তু’ মিলিয়ে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা আর কি।

বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচ হারের পর ওই আশার বাতি জ্বালিয়ে রাখা লোকের সংখ্যা কতজন, সেটাও বড় প্রশ্ন। মাত্র এক ম্যাচ জিতে ১০ দলের মধ্যে ৯ নম্বরে থাকা দলকে নিয়ে আর যাই হোক, সেমিফাইনালে খেলার আশা করাটা ‘ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন’ দেখার মতো ব্যাপার।

বিশ্বকাপ নিয়ে স্বপ্ন দেখাটা আপাতত বাদ দেওয়াই শ্রেয়। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও বিশ্বকাপ ঘিরে আর স্বপ্ন দেখছেন না। বাকি ম্যাচগুলো ভালো করে পয়েন্ট টেবিলের ওপরের দিকে থাকাটা এখন মূল লক্ষ্য তার। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ব্যাপারটি এখন আসলে সম্মান রক্ষার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বকাপে ‘বিরাট’ অর্জনের গান আপাতত শেষ। পয়েন্ট টেবিলের ওপরের দিকে থাকতে না পারলে আরও বড় লজ্জার মুখে পড়তে হবে। খেলা হবে না চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে!

আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপের রবিন রাউন্ড লিগের শীর্ষ সাত দল ও স্বাগতিক পাকিস্তান সুযোগ পাবে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। পাকিস্তান সেরা সাতের মধ্যে থাকলে সেক্ষেত্রে আটে থাকা দলের সুযোগ হবে।

ধরে নেওয়া হলো, পাকিস্তান শীর্ষ সাতেই থাকছে। সেক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে হলে বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিলে অন্তত আট নম্বরে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। ভারতের মাটিতে যাচ্ছেতাই পারফর্ম করা বাংলাদেশ ৬ ম্যাচ শেষে রয়েছে ৯ নম্বরে। দশম স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের সমান ২ পয়েন্ট হলেও নেট রানরেটে এগিয়ে থাকায় ৯ নম্বরে সাকিবরা।

সাকিব এই কারণেই শেষের তিন ম্যাচ জেতার ওপর জোর দিয়েছেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, ‘সেমিফাইনালের আশা নেই। সেমিফাইনালে খেলাটা হয়তো অসম্ভব। এখন আমরা যেটা করতে পারি, আরেকটু ভালো করা। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে চাইলে আট নম্বরে থাকতে হবে আমাদের।’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বাকি তিন ম্যাচ- পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ‍তিন ম্যাচের তিনটি জিতলেই যে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে পারবে, এটাও বলা যাচ্ছে না। আবার দুই ম্যাচ জিতলেও পাকিস্তানের টিকিট পেয়ে যেতে পারে। আসলে সবই নির্ভর করছে নেট রানরেট ও ‘যদি’, কিন্তু’র ওপর। অর্থাৎ, শুধু নিজেদের জয় নয়, অন্য দলগুলোর ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে।

এখন দেখা যাক, বিশ্বকাপের শেষ তিন ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা কতটা। ভারতে যাওয়ার আগে এশিয়া কাপে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছিল পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা দুই দলকেই।

স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের পর সুপার ফোরেও দেখা হয়েছিল। দুই সাক্ষাতেই হারের তিক্ততা বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্বে সাকিবরা মাত্র ১৬৪ রানে অলআউট হয়ে হেরেছিল ৫ উইকেটে। আর সুপার ফোরে লঙ্কানদের ২৫৭ রান তাড়া করতে নেমে হারে ২১ রানে। পাকিস্তানের সামনে তো দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ। সুপার ফোরের ম্যাচে ১৯৩ রানে হয়েছিল অলআউট। পাকিস্তান জিতেছিল ৭ উইকেটে।

বিশ্বকাপটা যদিও ভালো যাচ্ছে না পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার। তারপরও এশিয়া কাপের পরিসংখ্যান আমলে নিলে হারের বৃত্তে আটকে থাকা বাংলাদেশের কাজটা মোটেও সহজ হবে না।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শেষ প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল অজিদের। সেই তারা এমনভাবে ফিরে এসেছে যে, এখন বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট। শ্রীলঙ্কা, ‍পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পেয়েছে আত্মবিশ্বাসী জয়। উড়তে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সামনেও থাকবে সাকিবদের কঠিন পরীক্ষা।

তাহলে? ওই যে ‘মহান অনিশ্চয়তার খেলা’ ক্রিকেট। ২২ গজে যেকোনও কিছু সম্ভব। বাংলাদেশও হয়তো ফিরবে ছন্দে। দেখা মিলবে জয়ের।

চ্যাম্পিয়নস লিগে স্বপ্নযাত্রায় তারপরও হয়তো থাকবে হিসাব। কিন্তু আগে তো নিজেদের জেতা চাই। তাহলেই মেলানোর সুযোগ থাকবে ‍‘যদি’ ‘কিন্তু’র অঙ্ক!

ইত্তেফাক/এইচএ