কুমিল্লায় পুলিশের ধাওয়ায় জাকির হোসেন (৩৫) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (২৯ অক্টোবর) রাতে জেলার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি মোকাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ছিলেন। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন থানার ওসি।
জানা গেছে, রোববার রাত ৪টার দিকে একদল পুলিশ জাকিরের বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা খোলার জন্য ডাকাডাকি করতে থাকে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জাকির তার ঘরের পিছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে যায়। এ সময় পুলিশ জাকিরকে ধরতে ধাওয়া করে। পরে আর ঘরে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিল জাকিরকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। সকালে স্থানীয়রা বাড়ির অদূরে জাকিরকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়। তারা জাকিরকে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত জাকিরের ভাই আবদুল করিম বলেন, ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা কিংবা অভিযোগ নেই। পুলিশ কেন তাকে আটক করতে বাড়িতে আসলো এবং তাকে ধরতে ধাওয়া করলো তিনি তা জানেন না।
বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, গত কয়েকদিন ধরে পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি করে আসছিল। পুলিশ রোববার রাতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাকির হোসেনের বাড়িতে যায়। সকালে বাড়ির পাশে জাকিরের লাশ পাওয়া যায়। জাকিরের দুই হাতে হ্যান্ডকাপ পরানোর চিহ্ন রয়েছে। নির্যাতনেই তার মৃত্যু হতে পারে। বুড়িচং উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এ ঘটনার নিন্দা জানান তিনি।
বুড়িচং থানার ওসি আবুল হাসনাত খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ জাকিরকে আটক করতে যায়নি। অন্যজনকে আটক করতে গিয়েছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে যায়। তাকে আটক করলে তো পুলিশ থানায় নিয়ে আসতো। শুনেছি জাকির স্ট্রোকের রোগী ছিল, আগে সে দুইবার স্ট্রোক করেছে। পরিবারের লোকজন এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। শুনেছি পরিবারের লোকজন জাকিরের লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফন করে ফেলেছে।
