গাজা উপত্যকাস্থ আল-কুদস হাসপাতাল খালি করতে বলেছে ইসরায়েল। ইহুদিবাদী দেশটির এ নির্দেশকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক।
গাজার রেড ক্রিসেন্টের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়, হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) অনেক রোগী আছেন। অনেক শিশুকে ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছে। তাদের অন্যত্র স্থানান্তর করা সম্ভব নয়।
এছাড়া, আল-কুদস হাসপাতাল ও এর প্রাঙ্গণে গাজার প্রায় ১৪ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
রেড ক্রিসেন্ট আরও জানায়, আজ মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) আল-কুদস হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর প্রচণ্ড বোমাবর্ষণ চলছে। আর্টিলারি ও বিমান হামলায় আল-কুদস হাসপাতাল কাঁপছে। বাস্তুচ্যুত বেসামরিক লোক ও দায়িত্বরত কর্মীরা ভয় ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।
তুর্কি-ফিলিস্তিনি মৈত্রী হাসপাতালের বরাত দিয়ে বলা হয়, ইসরায়েলি হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও আহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ভোরে গাজার ইন্দোনেশিয়া হাসপাতালে তৃতীয় হামলা হয়।
আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অ্যাকশনএইড জানায়, আল-কুদস অ্যাম্বুল্যান্সগুলোর এখন জ্বালানি নেই। হাসপাতালের আশপাশের রাস্তায় এমনভাবে বোমা হামলা চলছে যে প্রয়োজনীয় সাহায্য এবং ডাক্তার রোগীদের কাছে যেতে পারছে না।
অ্যাকশনএইড ফিলিস্তিনের যোগাযোগ ও অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর রিহাম জাফারি বলেছেন, ‘গাজায় সাহায্যের প্রয়োজন। কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হামলা বেড়ে যাওয়ায় সাহায্যের পরিমান পর্যাপ্ত হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনবরত বোমা বর্ষণের কারণে রাস্তাগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়া সাহায্যের সরবরাহ হাসপাতালে পৌঁছানো যাচ্ছে না। আমরা যুদ্ধ বিরতির আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে হাসপাতাল এবং লাইফ সাপোর্ট মেশিনগুলো চলতে পারে।’
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গতকাল সোমবার হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বিবিসি নিউজ টুনাইটকে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়েছেন, আল-কুদস হাসপাতালের আশপাশে বোমাবর্ষণ শুরু হয়েছে। হাসপাতালের পেছনে আবাসিক ভবনে বোমা হামলা চালানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বড়দের সঙ্গে শিশুরা ভীতসন্ত্রস্ত। এর আগে গাজার একজন বাসিন্দা এক অডিও বার্তার মাধ্যমে জানায়, ‘ইসরায়েলিরা দুটি আবাসিক টাওয়ারে বোমা হামলা চালিয়েছে। এখন তৃতীয় আরেকটি টাওয়ারে হামলা চালাচ্ছে। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।’
এলাকার লোকজনের বলছে, গত রোববার ইসরায়েলি বিমান হামলায় হাসপাতালের আশপাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির এক ভিডিওতে, গাজার আল-কুদস হাসপাতালের বাইরে লোকজন জড়ো হচ্ছের ও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, ‘এখনও তাল আল-হাওয়া এলাকায় আল-কুদস হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বিমান হামলা চলছে।’
