বিএনপি-জামায়াতের ডাকা তিন দিনের অবরোধের ২য় দিনে রাজধানীর দূর পাল্লার যানবাহন চললেও যাত্রী শূন্য মহাখালী বাস টার্মিনাল। মহাখালী বাস টার্মিনাল গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই দুই একটি বাস চললেও যাত্রী শূন্যতায় বেশিরভাগ বাস কাউন্টার বন্ধ। বিকেলে বাস কাউন্টারে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে বেশ কয়েকজনকে, অবরোধে গাড়ি ভাংচুর ও আগুন দেয়ার ঘটনায় আতঙ্কিত যাত্রীরা।
জরুরি কাজ সেরে গাইবান্ধায় যাবেন সুলতান মাহমুদ শুভ, তিনি বলেন, ‘কাউন্টার থেকে বাস ছাড়া সঠিক সময় বলতে পারছে না। টিকিট কেটে বসে অপেক্ষা করছি।’
ভিসার কাজ শেষে রংপুর যেতে বাস কাউন্টার অপেক্ষা করছেন মামুন মিয়া, তিনি বলেন, ‘কাউন্টার থেকে বলছে গাড়ী যাবে, টিকিট কাটব পরে, সৌদি আরব যেতে ভিসার ফিঙ্গার দিতে আসছিলাম ঢাকায়, আবার এখন ফিরছি।’
উত্তরবঙ্গগামী বেশিরভাগ বাস কাউন্টারেই নীরবতা। বাস শ্রমিক ও কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা মোবাইলে ভিডিও দেখে অলস সময় পার করছেন।
একতা পরিবহনের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুজন বলেন, ‘বগুড়া, নওঁগা রোডে গতকাল দুইটা বাস ছাড়ছি। আজকে রাত ৮ টায় লাগাইছি, আমি কাউন্টার খুলে বসে আছি। যাত্রী হলে যাব, নাহ হলে যাব না। মোটামুটি যাত্রী হলেই ছেড়ে দেব'।
অবরোধে গাড়ী ভাঙচুর ও আগুনের ভয়ে গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছে অরিন পরিবহন। কাউন্টার ম্যানেজার বলেন, ‘রিস্ক নিতে পারব না, তাই কোম্পানি অবরোধে গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছে। কোম্পানির গাড়ি গেলে কোম্পানি বুঝবে কিন্তু যাত্রীর কিছু হলে তো কেউ দেখার নাই'।
তবে, বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে সিলেট-মৌলভীবাজার রোডে। মহাখালী থেকে গতকালের মতো আজও ছেড়ে গেছে বেশ কয়েকটি বাস।
এনা টান্সপোর্টের কাউন্টার মাস্টার মোহাম্মদ জোনায়েদ বলেন,‘ঢাকা থেকে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, বিয়ানীবাজার, হবিগঞ্জ, ছাতকে আমাদের গাড়ি যায়। ৫ কাউন্টার মিলিয়ে ১৪ টা গাড়ি আজ ছেড়ে গেছে। মহাখালীতে যাত্রী চাপ কম তবে উত্তরা ও এয়ারপোর্টে যাত্রী বেশি।’
উত্তরবঙ্গ গামী সিরাজগঞ্জের কাউন্টার সেবা লাইন, সাদিকা পরিবহন, এস আই পরিবহন, অভি এন্টারপ্রাইজ, রাজিব এন্টারপ্রাইজ, ষ্টার লিটে ঝুলছে তালা। জামালপুরের মহানগর, টাঙ্গাইলের হাই চয়েজ, বিনিময়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লাবিবা, নরসিংদীর পিএল সুপার, কিশোরগঞ্জের উজান ভাটি। নেত্রকোনার নেত্র পরিবহন, জনি পরিবহন, হয়রত শাহ জালাল পরিবহনের বাস কাউন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে, নেই কোন যাত্রী।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা বাস মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন পরিষদের সহ- সভাপতি মো. ইউসুফ মৃধা বলেন, ‘গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক,গাড়ি রেডি কিন্তু রোডে তো যাত্রী নাই, রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুরের আতংক থাকায় সাধারণ মানুষ কম আসছে, যাত্রী হলেই গাড়ি ছাড়ব। সকাল আর সন্ধ্যায় একটু যাত্রী চাপ আছে তখন দুই একটা গাড়ি ছাড়তেছি।’
