উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে প্রথম রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে বাংলাদেশের। বাংলদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল বুধবার আখাউরা-আগরতলা রেল যোগাযোগের উদ্বোধন করেছেন। একই সঙ্গে উদ্বোধন হয়েছে খুলনা-মংলা বন্দর রেল যোগাযোগ এবং মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারত সাত দশকেরও বেশি সময় পর উত্তর-পূর্বে ত্রিপুরার মাধ্যমে একটি রেল যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হলো।
আখাউরা-আগরতলা রেল স্থাপনের মাধ্যমে যাত্রীদের অনেক সময় বাঁচল। উদাহরণস্বরূপ কলকাতা এবং আগারতলা এবং এতে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বাড়বে।
বর্তমানে কলকাতা থেকে ত্রিপুরার রাজধানী আগারতলা যেতে যাত্রীদের অনেক সময় লাগে। কলকাতা থেকে আগরতলায় ট্রেনে যাত্রীদের উত্তর পশ্চিমবঙ্গ হয়ে আসামের গুয়াহাটি পর্যন্ত দীর্ঘ। এরপর পথটি দক্ষিণ দিকে ত্রিপুরার দিকে মোড় নেয়। এতে সময় লাগে প্রায় ৩৮ ঘণ্টা।
আখাউরা-আগরতলা লাইন তৈরি হওয়ায় ঢাকা-আগরতলা-কলকাতার সম্পর্ক তৈরি হলো। আখাউড়া-আগরতলা আন্তঃসীমান্ত রেল সংযোগ চালু হওয়ায় ট্রেনগুলো কলকাতা থেকে আগরতলা হয়ে বাংলাদেশ হয়ে চলতে পারবে। এর মাধ্যমে আগের থেকে যাত্রীদের ১২ ঘণ্টা সময় বাঁচবে।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, দুইটি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাই দুই দেশের সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগের প্রয়োজন ছিল বলেই তাদের অভিমত। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং নীতি আয়োগে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিশেষজ্ঞ সুমন মুখোপাধ্যায় জানান, ‘এই রেল যোগাযোগ দুই দেশের বাণিজ্যে অনেকটা সুযোগ বাড়াবে। এতদিন ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্ব হয়ে বাংলাদেশে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে ২২ কিলোমিটারের হেনস নেক বা বটল নেক রাস্তার উপর অনেক বেশি নির্ভর করতে হতো। নতুন রেল যোগাযোগ সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান করবে।
