বাংলাবান্ধা দিয়ে ভারত যেতে মিলছে না ভিসা

ভোগান্তিতে মানুষ

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:২০

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর (ইমিগ্রেশন) দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশন ভিসা প্রদান বন্ধ রেখেছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারত, নেপাল, ভুটানমুখী পর্যটকসহ নানা শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ। এ নিয়ে দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঠাকুরগাঁও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি গ্রুপ আলাদা আলাদাভাবে ফুলবাড়ী-বাংলাবান্ধা রুটে ভিসা প্রদানে লিখিত অনুরোধ জানিয়েছেন।

আবেদন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা নানা কাজে ভারত যাতায়াত করেন। ভারতের সঙ্গে বিপুল ব্যাবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। ভিসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছেন। এই অঞ্চলের অসুস্থ রোগীদের অধিকাংশই ভারতীয় চিকিত্সকদের চিকিত্সাসেবা নিতে আগ্রহী। তারাও এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় উত্তরবঙ্গের অনেক মানুষের নিকটত্মীয়রা বসবাস করেন। তাদের সঙ্গেও দেখা সাক্ষাত্ করার জন্য বাংলাদেশিরা এই রুটে যাতায়াত করেন। ভারত, নেপাল ও ভুটানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তারাও এই রুট ব্যবহার করে যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এই রুট ব্যবহার করে ভারত, নেপাল ও ভুটানের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় বাংলাদেশের ভ্রমণপিপাসুরা ভ্রমণ করেন।

বাংলাবান্ধা রুটে প্রথম ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ভিসা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তী সময়ে করোনা ভাইরাসের কারণে ভারতের সকল রুটে ভিসা বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর চলতি বছর ২৩ এপ্রিল আবার এ রুটে চালু করা হয় ভিসা প্রদান কার্যক্রম। কিন্তু ১৫-২০ দিন পর তা আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ রোগে আক্রান্ত। চিকিত্সার জন্য তিনি চেন্নাই যাবেন। এজন্য ভারতীয় ভিসার আবেদন করলে তাকে চেংরাবান্ধা রুটে ভিসা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আমার বাড়ি পঞ্চগড়। বাংলাবান্ধা রুটে ভিসা দিলে আমি ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে ভারতের বাগডোগরা বিমানবন্দর দিয়ে চেন্নাই যেতে পারতাম। এখন আমাকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাগডোগরা যেতে হবে। এতে সময় এবং অর্থ অনেক বেশি খরচ হয়ে যাবে।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি ইদ্রিস আলী জানান, ভারতের সঙ্গে আমাদের সৌহার্দপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্ববোধ অনেক বেশি। আমি বাংলাবান্ধা ফুলবাড়ী রুটে সব ধরনের ভিসা প্রদানের জন্য অনুরোধ করছি। তেঁতুলিয়া উপজেলা সুজনর সভাপতি কাজী মকছেদুর রহমান জানান, আমরা বাংলাবান্ধা রুটে ভিসা প্রদান করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা মিলন বলেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর। ব্যবসা, চিকিত্সা, ভ্রমণ এবং ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যাতায়াতের জন্য এই রুট ব্যবহার করে। যোগাযোগ ভালো হওয়ার কারণে খরচ খুবই কম। কিন্তু এখনো এই রুটে ভারতীয় ভিসা না দেওয়ার কারণে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। এই রুটে ভিসা প্রদানের জন্য চারটি জেলার ব্যবসায়িরা ভারতীয় দূতাবাসকে আবেদনের মাধ্যমে অনুরোধ জানিয়েছি। আশা করছি, তারা আমাদের সংকটগুলো অনুধাবন করে ব্যবস্থা নেবেন।

বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানান, এই ইমিগ্রেশন দিয়ে প্রতিদিন ২-৩ হাজার যাত্রী যাতায়াতের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু ভারতীয় দূতাবাস ভিসা না দেওয়ায় হাজার হাজার মানুষ অসুবিধায় আছেন। তবে, ভারতীয় নেপাল, ভুটান থেকে যাত্রীরা এ রুট ব্যবহার করে আসছেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি