স্বাধীনতা উত্তর রাজনীতি খুব কঠিন, এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনই বিতর্কমুক্ত নয়: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

  • রাষ্ট্র মেরামতে নবজাগরণ প্রয়োজন: শেখ শহীদ
  • দুর্নীতি-দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্য থাকতে হবে: সাদেক সিদ্দিকী
  • যুবকরাই উন্নয়নের নিয়ামক শক্তি: অ্যাড. এনামুল ইসলাম রুবেল
আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৩, ২১:৩৩

জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, স্বাধীনতা উত্তর রাজনীতি খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বাধীনতার পূর্বে আমরা জানতাম শত্রু কারা। স্বাধীনতা অর্জনের ৫২ বছর পরেও আমরা কী জানি আর কী জানি না-সেটাই জানি না। ‘জাতীয় যুব দিবস-২০২৩’ উপলক্ষে শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয় পার্টি-জেপির যুবসংগঠন জাতীয় যুবসংহতি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি ও জেপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আমরা গর্বিত জাতি। কিন্তু, দুঃখের বিষয়-এখন পর্যন্ত একটি নির্বাচনও বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। তিনি বলেন, কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে রাজনীতি যাচ্ছে। আমরা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করার কথা বলি। আবার যখন দেখি বড় বড় পদে সেই শক্তির লোকজন অধিষ্ঠিত তখন বিস্মিত হই। কাজেই যতটুকু বলবো-সত্য বলতে হবে। যেটা করব না সেটা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়। আমাদেরকে সত্য বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

জেপি চেয়ারম্যান বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে আমরা সঠিক ইতিহাস তুলে ধরি না। হয় জানি না, নতুবা ইচ্ছাকৃতই সঠিকটা বলি না। স্বাধীনতার ইতিহাস যার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে লিখছেন, বলছেন। এজন্য নতুন প্রজন্ম দ্বিধার মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে নতুন প্রজন্মকে উচ্চ শিক্ষিত হতে হবে। তিনি বলেন, আমি নতুন প্রজন্মকে দোষারোপ করি না। যুবসমাজের সামনে বক্তব্য রাখাও এখন কঠিন। কারণ যারা নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, দেখা যাচ্ছে তারাই নানা উপদেশ দিচ্ছেন। মানুষ এটা দেখে হাসে।

বক্তব্য রাখছেন জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম। ছবি: সামসুল হায়দার বাদশা

আলোচনা সভায় জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, যুবসমাজই দেশে সংস্কার সাধন করতে পারে। তারাই পারে দেশকে সম্মুখে এগিয়ে নিতে। যুবকদের সফলতার অনেক দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন, এটা জাতির জন্য গর্বের।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। কিন্তু সন্ত্রাস, ছিনতাই সবই হচ্ছে; কিশোর গ্যাং সৃষ্টি হচ্ছে। দুর্নীতি সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে। মাদক যুবসমাজকে গ্রাস করে ফেলছে। বাজার দখল করছে সিন্ডিকেট। ব্যাংক মালিকরা লুটপাট করছেন। দেশ থেকে অর্থ পাচার হচ্ছে। শুধুমাত্র একটি নির্বাচন দিয়ে সর্বগ্রাসী এই অবক্ষয় থেকে উদ্ধার পাওয়া যাবে না। এজন্য যুবসমাজকে রেনেসাঁ বা নবজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে।

জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাদেক সিদ্দিকী বলেন, আগামী নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি নিজেরাই নিজেদের নির্বাচনে আসার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। তারা যে পথ বেছে নিয়েছে সেখান থেকে নির্বাচনে এলে তাদের কর্মী-সমর্থকরাই তাদেরকে প্রতিহত করবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় সেটাকে ধারণ ও লালন করতে হবে। দুর্নীতি-দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্য থাকতে হবে। জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য এইচএম সালাহউদ্দিন মাহমুদ বলেন, এই ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়েছিল। সেদিন আমরা যারা যুবক ছিলাম-আমাদের মধ্যে আদর্শ ও ত্যাগের মনোভাব ছিল।

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি রুহুল আমিন বলেন,দেশের মানুষ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চায়। আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আজিজ বাঙ্গাল বলেন, দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় পরিচালনার ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

বক্তব্য রাখছেন জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি ও জেপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল। ছবি: সামসুল হায়দার বাদশা

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি ও জেপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল বলেন, যুবসমাজই দেশের উন্নয়নের মূল নিয়ামক শক্তি। মুক্তিযুদ্ধসহ এদেশের গৌরবজ্জল আন্দোলন-সংগ্রামের যত ইতিহাস প্রত্যেকটিতেই অগ্রভাগে ছিল যুবসমাজ। একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যুবসমাজকেই অগ্রণী ভ‚মিকা রাখতে হবে। এমপি-মন্ত্রী হওয়া আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য নয়। তবে এমপি-মন্ত্রী হতে পারলে নিজ এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সহজ হয়।

জাতীয় যুবসংহতির সাধারণ সম্পাদক মাহ্ফুজ আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রেণু ও মীর হারুন অর রশীদ; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির তালুকদার রাজু, আলী আব্দুল্লাহ টিংকু ও ওয়াকিল আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন জেপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু ও প্রচার সম্পাদক জীবন কৃষ্ণ বৈরাগী, বাংলাদেশ আইন সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজুর আলম, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রুস্তম আলী; জাতীয় যুবসংহতির সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন নান্নু ও মঞ্জুর হাবীব, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক রমিজুল ইসলাম সোহাগ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ নাজমুল হুদা, যুগ্ম সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা খুরশীদ সুমাইয়া সালাম, জেপি নেতা শাহনিয়াজ আকন্দ ও জাতীয় যুব সংহতির নেতা ওমর ফারুক ফারুকী।

প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এএএম