গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

শ্রমিক আন্দোলনে শীর্ষ ব্রান্ডগুলোর পোশাক উৎপাদন বন্ধের সম্মুখীন

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৩, ১২:২২

বেতন বাড়ানোর দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরসহ ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কিছু দিন ধরে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালিয়ে আসছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। কারখানাগুলো আবার চালু হওয়ার পর শনিবার পুলিশের সঙ্গে ধর্মঘটকারী পোশাক শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি বছরে ৫৫০০ কোটি ডলারের রপ্তানির মধ্যে শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগই রপ্তানি হয় ৩৫০০টি গার্মেন্ট কারখানা থেকে। তারা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ব্রান্ডকে পোশাক সরবরাহ করে। কিন্তু এই সেক্টরে কাজ করা ৪০ লাখ শ্রমিকের অবস্থা শোচনীয়। তাদের বেশির ভাগই নারী। তাদের মাসিক বেতন শুরু হয় ৮৩০০ টাকা থেকে।

এই বিক্ষোভের কারণে লিভাইস এবং এইচএন্ডএম এর মতো শীর্ষস্থানীয় পোশাক ব্র্যান্ডগুলি উৎপাদন হুমকির মুখে বলে জানিয়েছে গার্মেন্টস ইউনিয়নের নেতারা।

বন্ধ হওয়া গার্মেন্টস গুলোর মধ্যে দেশের অনেক বড় কারখানা রয়েছে যেমন, গ্যাপ, ওয়ালমার্ট, এইচএন্ডএম, জারা, ইন্ডিটেক্স, বেস্টসেলার, লিভাইস, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার, প্রাইমার্ক এবং আলডি। যারা প্রায় সব বড় বড় পশ্চিমা ব্র্যান্ড এবং খুচরা বিক্রেতাদের পোশাক তৈরি করে থাকে।

পুলিশ বলেছে, সপ্তাহজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে সব মিলিয়ে ৬০০ কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিক্ষোভে এরই মধ্যে দু’জন শ্রমিক নিহত ও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। শ্রমিক আন্দোলনে কয়েক ডজন কারখানায় ভাংচুর করা হয়েছে।

শুক্রবারও প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছেন হাজারো গার্মেন্ট শ্রমিক। কয়েকটি কারখানা খুলে দিলে ১০ হাজার সহকর্মীদের যোগ দেয়া আটকে দেয়ার চেষ্টা করেছেন প্রায় ৩০০০ শ্রমিক। এরপর শুরু হয় সংঘর্ষ।

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ। ছবি: মুনির উজ জামান

আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সরোয়ার আলম বলেন, গার্মেন্ট শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করার চেষ্টা করে এবং কারখানার দিকে ইট-পাথর নিক্ষেপ করে শিংস বিক্ষোভ করে।

আশুলিয়া থানার ওসি আরও বলেন, ওই এলাকার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাভারের কাছাকাছি ১৫০০ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। এ সময় আমরা আমরা কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এক সপ্তাহের সহিংস বিক্ষোভের পর অবশেষে শ্রমিকরাও তাদের কাজে ফিরেছে বলেন জানান তিনি।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের (বিজিআইডব্লিউএফ) সভাপতি কল্পনা আক্তার এএফপিকে বলেন, সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভের কারণে বিশ্বের শীর্ষ কয়েকটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তিনি বলেন, এই বিক্ষোভের কারণে লিভাইস এবং এইচএন্ডএম এর মতো শীর্ষস্থানীয় পোশাক ব্র্যান্ডগুলি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে।

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ। ছবি: মুনির উজ জামান

প্রাইমার্কের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ডাবলিন সদরদপ্তরের এই ফাস্ট ফ্যাশনের খুচরা ক্রেতার সরবরাহ চেইনে এখনও কোনো বিঘ্ন হয়নি। তিনি আরও বলেন, আমাদের সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। 

শ্রমিকরা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবারের খরচ মেটাতে লড়াই করতে হচ্ছে তাদের। তাদেরকে শতকরা ২৫ ভাগ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। শ্রমিকরা বলছেন, মাসিক যে ২৩০০০ টাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলন করছেন, এই অর্থ তার চেয়ে অনেক কম। 

এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ এমন এক সময়ে ঘটছে যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবিতে বিরোধী দল আন্দোলন করছে। - এএফপি

ইত্তেফাক/এএইচপি