নির্মাণ চলাকালেই ধসে পড়ল সেতুর  গার্ডার

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৩, ১০:৫৬

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের হিলি-শালাইপুর সড়কের কলনন্দপুর তুলশীগঙ্গা নদীতে নির্মাণাধীন সেতুর নির্মাণ কাজ চলাকালে এক পাশের গার্ডার ধসে পড়েছে। বিভাগীয় তদারকির অভাব ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ফলে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের দাবি সেতুটির গার্ডার নির্মাণে ক্রটি দেখা যাওয়ায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে সেটি সরিয়ে ফেলতে বললে সেটি  সরানোর সময় অসাবধানতাবশত ভেঙে পড়ে। গত রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৪ মিটার দৈর্ঘ্যের কলন্দপুরে তুলশীগঙ্গা নদীতে চলতি বছর ৮ জানুয়ারি সেতুটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। যৌথভাবে সেতুটির নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পান মেসার্স জামান এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স এম এন এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, নিম্নমানের বালু, পাথর ও স্বল্প ঘনত্বের রড দিয়ে সেতু নির্মাণের কাজ করলেও সড়ক বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে তদারকি করতে দেখা যায়নি। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুটির নির্মাণ কাজ করত রাতে।

ছবি: ইত্তেফাক

আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, ‘সরকার জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে সেতু নির্মাণের যে বরাদ্দ দিয়েছে তাতে একটি ভালো সেতু নির্মাণ হওয়ার কথা। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাজের মানও খুব খারাপ এবং সেতু নির্মাণে পাথরের চেয়ে বালুর পরিমাণই বেশি। তার প্রশ্ন কাজের মান খারাপ না হলে রাতের আঁধারে কাজ করবে কেন?’

হাসান নামে একজন স্থানীয় বলেন, ‘আমি প্রায় এই এলাকা দিয়ে যাওয়া আসা করি। সেতুর কাজ কখন করে দেখতে পাই না। আজ যাওয়ার পথে দেখি সেতুটি ভেঙে গেছে। কাজ যদি ভালো হতো তবে সেতুটি ভাঙত না।’

এ বিষয়ে সেতু সংশ্লিষ্ট এলাকার আব্দুর রউফসহ একাধিক লোকজন বলেন, ‘সেতুর কোনো কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে না। সিমেন্ট, পাথর ও অন্যান্য সামগ্রীর ব্যবহার একেবারেই কম। তাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট প্রকৌশলী সঞ্জিত নিম্নমানের কাজের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নিয়ম মেনেই  গার্ডার নির্মাণ করা হয়। কিন্ত সেটি স্থানান্তর করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত পড়ে যায়। আর রাতে কখনও কাজ করা হয়নি। তবে অনেক সময় দিনে শুরু করা কাজ শেষ করতে গিয়ে সন্ধ্যা পেরিয়ে যায়।’

জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহিনুর রহমান বলেন, ‘সেতুর নির্মাণ করা গার্ডাটির নির্মাণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে শিডিউলে বর্ণিত না হয়ে ক্রটিপূর্ণ দেখা যায়। সে কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গার্ডাটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদারের লোকজন সেটি সরাতে গেলে অসাবধানতাবশত ভেঙে পড়ে।’

ইত্তেফাক/এইচএ