ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে ব্যালট পেপারে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, তার নিশ্চিত জয়কে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভিডিওটি গত ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচনের আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের দুটি বুথের। সম্প্রতি এটি ভাইরাল হয়।
২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রের এক নারী সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সামনে তিন জন দাঁড়িয়ে আছেন। সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তাদেরকে একের পর এক ব্যালট ছিঁড়ে দিচ্ছেন। এক যুবক বারবার আঙুলের ছাপ দিয়ে ব্যালটে নৌকা প্রতীকে সিল মারছেন। পাশে থাকা আরেক যুবক ব্যালট ভাঁজ করছেন।
ভিডিওতে আরেক বুথের চিত্রে দেখা যায়, সেখানকার দায়িত্বরত সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা একের এর এক ব্যালট পেপারের পেছনে স্বাক্ষর করছেন। তার সামনে পাঁচ-ছয়জন যুবক। তাদের মধ্যে এক যুবকের গলায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান আলমের ছবি সম্বলিত কার্ড ঝুলছিল। সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা স্বাক্ষর শেষে একে একে ব্যালট ছিঁড়ে দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর লোকজন টেবিলে রেখেই নৌকা প্রতীকে একের পর এক সিল মারেন। তখন এক যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘সিল মারো ভাই সিল মারো’। সেসময় আরেক যুবক বলেন, ‘নৌকা মার্কায় সিল মারো।’
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা বলেন, ‘সিল মারার মহড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আমি নিজে আশুগঞ্জ উপজেলার ১৫-২০টি কেন্দ্রে ঘুরেছি। সেখানে ভোটারদের লাইন ছিল না, ভিড় ছিল না। সেখানে কেন্দ্রগুলো থেকে হাজার হাজার ভোট সংগ্রহ করা হয়েছে। তারা যেভাবে হাজার হাজার ভোট নিয়ে গেলো—তা এই সরকারের অধীনে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটি একটি অস্বচ্ছ নির্বাচন। এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে ফলাফল স্থগিত করেছে। একটি কথাই বলব, যদি জনগণের ভোট হতো, সঠিক ভোট হতো—আমি বিপুল ভোটে জয়ী হতাম। আমার বিজয়কে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।'
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ উপনির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু নৌকা প্রতীকে ৬৬ হাজার ৩১৪ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা কলার ছড়ি প্রতীকে পান ৩৭ হাজার ৫৫৭ ভোট। পরে অনিয়মের অভিযোগে উপনির্বাচনের ফলের গেজেট স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইত্তেফাক/ডিডি/এএএম
