পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেছেন, রাধারমণ দত্তের মতো গুণীজনেরা বাংলার লোকসংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। বর্তমান সরকার এমন বাউল সাধকদের মর্যাদা নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, আমরা রাধারমণ দত্তের স্মৃতি অমলিন রাখতে জগন্নাথপুরে রাধারমণ দত্ত কমপ্লেক্স স্হাপন করব। অচিরেই এর কাজ শুরু হবে।
শুক্রবার (১০ নভেম্বর) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মরমি কবি রাধারমণ দত্তের ১০৮ তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনায় এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী। রাত ৮টায় জগন্নাথপুর উপজেলার পৌরশহরে কেশবপুর বাজার সংলগ্ন মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও রাধারমণ দত্ত সমাজকল্যাণ পরিষদ যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের শিল্প-সংস্কৃতিকে বিকশিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে রাখতে হলে আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত হরতাল-অবরোধ ডেকে দেশের উন্নয়নকে স্হবির করতে চায়। এই নৈরাজ্য রুখে দাঁড়াতে হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাজেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার শুভাশীষ ধর, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সিদ্দিক আহমেদ, শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাহাদাত মান্নান অভি, জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, রাধারমণ দত্তের উত্তরসূরি নিশীথ রঞ্জন দত্ত, উপজেলা পরিষদের ভাইসচেয়ারম্যান আবুল হোসেন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া খানম সাথী, আওয়ামী লীগ নেতা আকমল খান, প্যানেল মেয়র সাফরোজ ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল মুকিত প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন পৌর কাউন্সিলর সফিকুল হক শফিক।
পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসঙ্গত, রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থ একজন সাধক কবি ও বৈষ্ণব বাউল ছিলেন। তিনি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ১৮৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর রচিত ধামাইল গান বৃহত্তর সিলেটে ব্যাপক জনপ্রিয়। দেহতত্ত্ব, ভক্তিমূলক, অনুরাগ, প্রেম, ভজন, ধামাইলসহ নানা ধরনের কয়েক হাজার গান রচনা করেছেন তিনি। তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় একটি গান হলো 'ভ্রমর কইয়ো গিয়া, শ্রীকৃষ্ণ বিচ্ছেদের অনলে অঙ্গ যায় জ্বলিয়া রে'। ১৯১৫ সালে ইহলোক ত্যাগ করেন রাধারমণ দত্ত।

