ঘরের মাটিতে চলমান বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে রয়েছেন বিরাট কোহলি। তার ব্যাট যেন থামছেই না। এখন পর্যন্ত আসরটিতে খেলা ৮ ম্যাচের ৬টিতেই খেলেছে পঞ্চাশর্ধ্ব ইনিংস তার মধ্যে রয়েছে দুই সেঞ্চুরিও। সব মিলিয়ে তার সংগ্রহ ৫৪৩।
এছাড়া সবশেষ ম্যাচে আসরে উড়তে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শতরানের ইনিংস খেলে তো ওয়ানডেতে ছুঁয়ে ফেলেছেন ভারতীয় কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকারের ওয়ানডেতে ৪৯ সেঞ্চুরি করার রেকর্ডও। বিশ্বকাপের মঞ্চে বিরাটের পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ হয়েছেন সাবেক ক্যারিবিয়ান তারকা ক্রিকেটার স্যার ভিভ রিচার্ডস।
শুধু তাই নয়, নিজেকে বিরাটের একজন বড় ভক্ত বলেও দাবি করেছেন তিনি। সঙ্গে এমন পারফরম্যান্সে বিরাট কোহলিকে সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার করে তুলছে বলে মনে করছেন।
সম্প্রতি আইসিসির ওয়েবসাইটে নিজের কলামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান লিখেছেন, ‘এই বিশ্বকাপে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার খেলে চলেছে। কিন্তু এদের মধ্যে সেরাকে বাছতে হলে, বিরাট কোহলির বাইরে আর কোনো নাম ভাবা সম্ভব নয়। আমি বিরাটের বিশাল ভক্ত এবং, সেটা অনেক দিন থেকেই। বিরাট দেখিয়ে দিচ্ছে, কেন ওকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় রাখতেই হবে। একেবারে শচীন টেন্ডুলকারের মতো ক্রিকেটারদের পাশে।’
এ সময় বিশ্বকাপের আগে বিরাটের খারাপ সময়ে যারা তাকে সমর্থন দিয়েছেন এবং পরে বিশ্বকাপ দলে যুক্ত করেছেন তাদের কৃতিত্ব দিয়ে দুই বারের বিশ্বকাপ জয়ী এই ক্রিকেটার লিখেছেন, ‘এর কৃতিত্ব অবশ্যই ব্যাকরুম স্টাফ এবং যারা তাকে সমর্থন করেছেন তাদের সবাইকে দিতে হবে। খারাপ সময়ে তার ফর্ম সম্পর্কে অনেক কিছু বলা হয়েছিল তবে সে ব্যাট হাতে নিজের চেনা রূপে ফিরে এসেছে। এমন একজন ব্যক্তিকে দেখা অসাধারণ, যিনি কি না নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন তবে সে ফিরে এসে এভাবে খেলছে। কঠিন সময় পার করে আবার স্বমহিমায় নিজেকে তুলে ধরার মধ্যে দিয়েই বিরাট বুঝিয়ে দিয়েছে, ও অসাধারণ এক জন ক্রিকেটার।
বাকিদের থেকে কোথায় বিরাট বাকিদের থেকে আলাদা? ব্যাখ্যা করে ভিভ লিখেন, ‘ওর মানসিক শক্তির কোনো তুলনা নেই। নিজের প্রতি সব সময় আস্থা রাখে বিরাট। অতীতে আমি ওর সঙ্গে অনেক কথা বলেছি। তখনই ওর মানসিক শক্তির আঁচ পেয়েছিলাম। সেই শক্তিটাই ওকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। খুব কম লোকই আছে, বিরাটের মতো ধাতুতে তৈরি।’ এর আগে তার সঙ্গে বিরাটের তুলনা অনেক বারই হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ভিভ লিখেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মধ্যে তুলনা হয়ে এসেছে। এর কারণটা হলো, মাঠের মধ্যে আমাদের আবেগের বহিঃপ্রকাশটা প্রায় একই রকম। বিরাটের এই আবেগ আমার খুবই ভালো লাগে। ও যদি লং অন বা লং অফে ফিল্ডিং করে, তা হলেও ব্যাটসম্যানের প্যাডে বল লাগলেও আবেদন করতে ছুটে আসে। ও সব সময় খেলার মধ্যে আছে। এই রকম চরিত্র আমার খুবই ভালো লাগে।’
এবারের বিশ্বকাপটি প্রথম আসর যেখানে দুই বারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলছে না এবং রিচার্ড আশা করেছিলেন যে এটি ক্যারিবিয়ানরা নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর ডাক হিসাবে গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে তিনি লেখেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের সমর্থকদের জন্য এটা লজ্জার যে তারা তাদের দলকে বিশ্বকাপে লড়াই করতে দেখার সুযোগ পায়নি। আমি আশা করছি এবারের আসরে অংশ নিতে না পারার কষ্টটাকে নিজেদের তৈরি করার ডাক হিসাবে গ্রহণ করবে। কারণ এটি একটি প্রতিযোগিতা যা আমাদের কাছে অনেক অর্থবহ। ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালে আমরা যে দুটি বিশ্বকাপ জিতেছি তা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম অর্জন।’
