কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তবে তিনি আমাদের জাতীয় কবি হলেও বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ওনার অবদান ভারতও ভালো করে জানে। তার ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ গানটি আমাদের বিভিন্ন সংগ্রামে চিন্তাতিত উদ্দিপনা, শক্তি জুগিয়েছে। বলা যায়, অনেক সংগ্রামে গানটি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। সেই জায়গা থেকে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এত সুন্দর একটি গানকে কীভাবে এ আর রহমান বিকৃত করতে পারলেন?
এটা খুবই দুঃখজনক যে, তার মতো এত বড়মাপের একজন সংগীত পরিচালক, সারাবিশ্বে যাকে এক নামে চেনে তিনি এমন একটি কাজ করতে পারেন! যদিও ভারতে এ ধরনের প্রবণতা আগেও দেখেছি, কোনো কথা বা অনুমতি না নিয়ে গান ব্যবহার তারা করেছেন।
‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ গানটি তিনি নতুন আয়োজনে করেছেন বা অনুমতি নিয়েছেন, কী নেননি সেই বিষয়ে আমি না-ই বললাম। কিন্তু উনি কীভাবে গানটির সুর পাল্টে দিলেন? এটা কীভাবে সম্ভব! ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ নামের নতুন সুরে একটি গান শুনলাম মনে হচ্ছে। আরেকটি বিষয় হলো, এ আর রহমানের মতো মানুষ, যাকে অনেকেই আইডল ভাবেন, ফলো করেন তিনি যদি এমন উদাহরণ সৃষ্টি করেন তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম গানগুলোকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যাবেন?
তিনি তো নতুন বে-ঠিকের দ্বার উন্মোচন করে দিলেন। এ আর রহমান অনেক সম্মানিত ব্যক্তি হতে পারেন, কিন্তু এই কাজটি করে অত্যন্ত ভুল করেছেন। তার মতো গুণী মানুষের কাজ থেকে এমনটা আশা করিনি। রবীন্দ্রনাথ বা নজরুলের গান কেউ না জেনে বা ঘরে বসে খ্যাতি পাওয়ার জন্য বিকৃত করলো, এটা অন্য বিষয়।
কিন্তু এ আর রহমানে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি রয়েছে। তিনি এমন কাজ কী করে করেন সেটাই আমার বোধগম্য হচ্ছে না। আমার মনে হয়, এই কাজটির জন্য ক্ষমা চেয়ে, গানটি তুলে নিয়ে নতুন করে করা উচিত। কোনো এক্সকিউস দেখানো ঠিক হচ্ছে না। আজ নিউজে দেখলাম, উনি বলেছেন রিমেকের জন্য অনুমতি তিনি নিয়েছিলেন। কিন্তু রিমেক আর রিটিউন তো এক জিনিস না। রিমেক মানে রিটিউন না। এখানে ধোঁয়াশা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। রিমেক মানে সুর ঠিক রেখে আয়োজনটা একটু অন্যরকম করে গানটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা। পৃথিবীর কোথাও রিমেকে সুর বদলানো হয় না।
‘চল চল চল’, ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ তো কবি নজরুলের সিগনেচার গান। নজরুল ইসলামকে বিদ্রোহী কবি বলার মূল কারণই কিন্তু এ ধরনের গান। সেই গানগুলোর এমন সুর পরিবর্তন সত্যি হাস্যকর। তবে এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা প্রতিবাদ জানালেও সেচ্চার হওয়ার কোনো উপায় দেখছি না। কারণ এখন ইউটিউবের যুগে সবাই শিল্পী বনে চলে গেছে। সব কিছু আউট অব কন্টোল! যে যে যার মতো একজনের গান নিয়ে আঁকিয়ে-বাঁকিয়ে ব্যবহার করছে। সুর চুরি করছে। এটা সত্যি আমাদের জন্য লজ্জার।

গানের সুর বিকৃতিতে এবার মুখ খুললেন নজরুলের নাতি
সমালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন গায়ক
নজরুলের গান বিকৃতি, এ আর রহমানের বিচার দাবি পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর