বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ম্যাচ শেষ হয়ে গেল। পাঁচ দিনের ব্যবধানে আরও একবার এই দুই দেশ মুখোমুখি হবে। এটিও বিশ্বকাপের খেলা। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইয়ের খেলায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া, বৃহস্পতিবার ১৬ নভেম্বর। বিশ্বকাপের এটি রাউন্ড-টু পর্বের খেলা। বাংলাদেশ এরই মধ্যে দুই ম্যাচ খেলে রাউন্ড-টুয়ে উঠেছে। গ্রুপ পর্বে প্রবেশ করেছে। আর অস্ট্রেলিয়া সরাসরি গ্রুপ পর্বে খেলছে এবং তারা প্রথম ম্যাচই খেলছে নিজেদের ঘরের মাঠে, পাহাড়ি শহর মেলবোর্নে। বাংলাদেশ ফুটবল দল এরই মধ্যে সুন্দর শহরে পৌঁছেছে। ঢাকা থেকে সময় ব্যবধান ৫ ঘণ্টা। মোলবোর্ন পাঁচ ঘণ্টা এগিয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড-ই (এমসিজি) হচ্ছে সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম। এমসিজির সংলগ্ন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সদর দপ্তর। এমসিজিতে কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধন, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ম্যাচ-সহ যা কিছু আছে সবই হয়েছে এখানে। ক্রিকেটের বাইরে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ানুষ্ঠান থাকলে এবং ক্রিকেটের পিচের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে পিচ তুলে ফেলা যায়। তুলে হেলিকপ্টারের সাহায্যে অন্য স্থানে রাখা হয়। প্রয়োজনের সময় পুনঃস্থাপন করারর কথা শোনা গিয়েছিল ২০০৬ কমনওয়েলথ গেমসের সময়। ধারণা ছিল, এবার বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ফুটবল ম্যাচ হবে এখানে। সেটি হচ্ছে না। খেলা হবে মেলবোর্ন রেক্টঙ্গুলার স্টেডিয়ামে। এই স্টেডিয়ামে এক সময় রাগবি খেলাই হতো। পরে এখানে ফুটবল চালু হয়।
এবছর নারী বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল যৌথভাবে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড। রেক্টঙ্গুলার স্টেডিয়ামে নারী বিশ্বকাপের ছয়টি ম্যাচ হয়েছে। দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার, নারী বিশ্বকাপে সাংবাদিক আসবেন বলে দর্শক আসন কমিয়ে ২৭ হাজার করা হয়। এখনো রাগবি খেলা হয়। এশিয়ান কাপের খেলা হয়। কাতার বিশ্বকাপ বাছাই এবং এএফসির তৃতীয় রাউন্ডের বাছাইয়ে অস্ট্রেলিয়া-ভিয়েতনাম খেলা হয়েছে রেক্টঙ্গুলার স্টেডিয়ামে ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি। সেই ম্যাচে সাড়ে ২৭ হাজার দর্শক হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া এই মাঠে ফুটবল খেললে দর্শক ভরে যায়। স্বাভাবিকভাবে ধরে নেওয়া যায়, আগামী বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ম্যাচ দেখতেও দর্শক ভরে যাবে। অস্ট্রেলিয়ানরা খেলাপাগল।
যে কোনো খেলা হলে পরিবার নিয়ে ছুটে আসে। আগাম টিকিট সংগ্রহ করে। অনেকেই নাকি টিকিট সংগ্রহ করছেন। বাংলাদেশি আছেন প্রচুর, তারাও টিকিট খুঁজছেন। দেশের খেলা হলে ছুটে আসেন। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময়ই তো দেখা গেছে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি মাঠে হাজির। এসব কারণে বলা যায়, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটা ভিন্নরকম আবহ এনে দেবে। যদিও অস্ট্রেলিয়া আর বাংলাদেশের ফুটবল শক্তির পার্থক্য অনেক। তারপরও ছেড়ে না দেবার মানসিকতা নিয়েই বাংলাদেশের ছেলেরা মাঠে নামবে।
কাতার বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া খেলেছিল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। মেসিদের বিপক্ষে খেলা সেই ম্যাচের অন্তত ৯ ফুটবলার আছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা একটা দলের ৯ খেলোয়াড় যদি থাকে তার জন্য এটাই বড়। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ম্যাটি রায়ান ডেনমার্কে খেলেন। ১৭ ম্যাচ খেলে ৮ ম্যাচে গোলই হজম করেননি তিনি। ক্রেইগ গুড উইন সৌদি প্রো লিগের ফুটবলার। ৭ ম্যাচে ৮ গোল করেছেন। জেমি ম্যালারেনরা মেসিদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা রাখেন। তাদের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামার আগে এসব নিয়ে ভাবতে রাজি না দলের ম্যানেজার আমের খান। ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে এসব নিয়ে আলোচনায় বলছিলেন তিনি।
