নিজ দেশের বিমানবন্দরে বিব্রত ফুটবল দল অস্ট্রেলিয়ায় নেমে মুগ্ধ

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৩, ১৩:০৪

অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে নিজের মনটাকে বুঝাতে পারছেন না জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজার আমের খান। বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইয়ে জাতীয় দল মেলবোর্নে পৌঁছেছে, দুদিন আগে। কিন্তু দেশের বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছ থেকে যে ধরনের ব্যবহার পেয়েছেন তার সঙ্গে মোলবোর্নের পুলিশ ইমিগ্রেশনের কোনো মিল-ই খুঁজে পাচ্ছেন না আমের খান। বিমানে ওঠার আগে নিজ দেশের ইমিগ্রেশন থেকে কটু কথা শুনেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। যেটা দেশের ফুটবলের জন্য লজ্জা। 

বাংলাদেশের ফুটবল দল কিংবা বাংলাদেশের অর্থনীতি সব দিক থেকেই অস্ট্রেলিয়া অনেক এগিয়ে। তার পরও অস্ট্রেলিয়ার বিমানবন্দরে নেমে অভ্যর্থনা পেয়েছেন। মেলবোর্নের বিমানবন্দরে প্রতিটি ধাপে ধাপে বাংলাদেশ ফুটবল দল যেভাবে সম্মান পেয়েছে তা নাকি ফুটবল দলের সবার মনে থাকবে। সবার মুখে হাসি, বিমানবন্দরে অস্ট্রেলিয়ানরা ইমিগ্রেশন বাংলাদেশ ফুটবল দলকে হাসি মুখে বরণ করে নিয়েছে। নাক সিটকানো কোনো ভাব দেখেননি কেউ। 

বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই ম্যাচ খেলতে এসেছে শুনে তাদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। তা নিয়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের উত্সাহ ছিল। সম্মানের সঙ্গে কত সহজে, কত দ্রুত বাংলাদেশের ফুটবল দলকে এগিয়ে দেওয়া যায় তা দেখে অভিভূত হয়েছেন বাংলার ফুটবলাররা। নিজেদের সম্মানিত বোধ করেছেন। অস্ট্রেলিয়া ইমিগ্রেশন জানে তারা কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলেছে। বাংলাদেশও কী কাতার বিশ্বকাপে খেলেছিল কিনা, ফুটবল নিয়ে কৌতুহল ছিল ইমিগ্রেশনের। ক্রিকেট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাহ্যিক ব্যবহারের এমন সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ বাংলাদেশ ফুটবল দল। সঙ্গে সঙ্গে স্মরণ করেছেন পেছনে রেখে আসা নিজ দেশের ইমিগ্রেশন থেকে পাওয়া ব্যবহার।  

দলের ম্যানেজার আমের খান অস্ট্রেলিয়া থেকে জানালেন ১০ নভেম্বর রাতে তারা ঢাকা থেকে অস্ট্রেলিয়ার পথে রওনা হন। ঢাকায় বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন ভালো ব্যবহার করেনি। আমের খান বললেন, ‘আমরা ইমিগ্রেশনে। ওয়াকিটকিতে অন্য প্রান্তে জানানো হলো বাংলাদেশ ফুটবল দল অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে। অপরপ্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে আসল লোক যাচ্ছে কিনা দেখো। অন্য কোনো লোক যাচ্ছে কিনা। সব নাম মিলিয়ে নিতে হবে। এ ধরনের আচরণ কেন করল আমার বোধগম্য হয় না। একটা দেশের জাতীয় দল ফিফা বিশ্বকাপের বাছাই খেলতে যাচ্ছে। সরকারি অনুমোদন নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে সবার নামে কাগজপত্র এসেছে ঢাকায়, অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনে। অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তারা সব পেপারস দেখে, শুনে, বুঝে ভিসা ইস্যু করেছে। আর বিমানবন্দরের পুলিশ ইমিগ্রেশন সন্দেহ করছে আদম পাচার হচ্ছে কিনা। সব কাগজপত্র মিলিয়ে দেখতে বলছেন।’

আমের খান বলছেন, ‘যিনি পাসপোর্টে বহির্গমনের সিল দিচ্ছেন তিনি বললেন আমার কিছু করার নেই। আপনি তো নিজেই শুনলেন স্যাররা কী বলেছেন।’ আমের বললেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন যদি সন্দেহ করত তাহলে মনটাকে বুঝ দিতে পারতাম। ওরা কতো সুন্দর করে আমাদেরকে সম্মান দিয়ে ঘরে তুলে নিল। আর নিজের দেশের ইমিগ্রেশন যে ধরনের আচরণ করল, সেটা যদি অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন শুনতো তাহলে মুখ দেখাতে পারতাম না।’ তিনি বলেন, ‘ফিফার খেলা, বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ। খেলতে যাচ্ছে নিজে দেশ বাংলাদেশ, ইমিগ্রেশন কর্তারা সম্মানের সঙ্গে এগিয়ে দেবে। উলটো বিব্রত হতে হলো।’ 

 

ইত্তেফাক/জেডএইচ