ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫, বাড়িঘর ভাঙচুর

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৩, ২২:৪১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দু’পক্ষের দফায় দফায় প্রায় ৫ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৩ নভেম্বর) সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিসীমা পশ্চিম পাড়ায় বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়ে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চলে। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খানেবাড়ি গোষ্ঠী ও সিরাজ আলী বাড়ির গোষ্ঠী একটি পক্ষ এবং দোলা বাড়ি গোষ্ঠী আরেকটি পক্ষ। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা পরিষদ সদস্য বাবুল মিয়া ও আরেকটি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক ইউপি সদস্য আরজু মিয়া। এই দুই পক্ষের মধ্যে স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। রোববার সন্ধ্যায় সাবেক ইউপি সদস্য আরজু মেম্বারের পক্ষের দোলা গোষ্ঠীর বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত ও তার ছেলেকে মারধর করে জেলা পরিষদ সদস্য বাবুল মিয়ার পক্ষের খানে বাড়ি ও সিরাজ আলীর গোষ্ঠীর লোকজন। বিষয়টি রাতেই স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। সোমবার সকালে সদর থানায় মীমাংসা করার জন্য সালিশ সভা ডাকা হয়। সকালে সভা চলাকালে এলাকায় উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১৫জন আহত হন। বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ব্যাপক ভাঙচুরের শিকার হয়। আহতদের মধ্যে হারিছ মিয়া, বাবু, শাকিব, ফিরোজ মিয়া, সোহাগ মিয়া, হানিফ মিয়া, বিল্লাল মিয়া, রোজিনা আক্তার, সিরাজ মিয়া ও নোয়াব মিয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। বাকিরা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন।

খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ ও কমপক্ষে অর্ধশতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আহতরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. সোহেল আহমেদ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএএম