জীবন চলে অটোরিকশায়

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৩, ০২:২৮

জীবন তো আর থেমে থাকে না। চালিয়ে নিতে হয় শত কষ্টের মধ্যেও। হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে তো আর পেট চলবে না। তাই স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরেন নাছিমা আক্তার (৪৫)। আর এ জন্য তাকে বেছে নিতে হয়েছে কঠিন কাজ। তিনি দিনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আর রাতে চায়ের দোকানি।  সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্বামী মারা যান ১৫ বছর আগে। বিধবা নাছিমার সংসারে তিন মেয়ে। অটোরিকশা  চালিয়ে বড় মেয়ে জোসনার (২০) বিয়ে দিয়েছেন। মেঝ মেয়ে ফারজানা (১৫) ও ছোট মেয়ে ফারিয়াকে (১০) একটি মাদ্রাসায় রেখে পড়াচ্ছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে কথা হয় নাছিমার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সিলেটের কামারপাড়ায় আমার জন্ম। সেখান থেকে বাবা-মার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে চলে আসি। এক সময় আব্দুর বারেকের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। আব্দুল বারেক ট্রাক ড্রাইভার ছিলেন। আমাদের সংসার সুখেরই ছিল। হঠাৎ করে একদিন আমার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তখন আমার দুই মেয়ে এবং ছোট সন্তান পেটে ছিল। আমার পিতা-মাতাও নেই। কার কাছে গিয়ে দাঁড়াব, কার কাছে হাত পাতব। খাব কী, বাড়ি ভাড়া দিব কীভাবে?

তিনি বলেন, বহু কষ্টের পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ডেমরা সড়কের গলাকাটা পুলের পাশে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান দেই। দীর্ঘদিন এই দোকানদারি করে সংসার চালাতাম। মেয়েদের পড়াশোনার খরচ, ঘরভাড়া দিতে আমি খুব হিমশিম খাচ্ছিলাম। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম একবেলা অটোরিকশা চালাব এবং এক বেলা দোকানদারি করব। এখন মোটামুটি ভালো আছি, সংসার চলছে।

তিনি আরও বলেন, অটোরিকশা চালিয়ে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পাই। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গাড়ি চালাই। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ২টা পর্যন্ত দোকানদারি করি। বড় মেয়েটিকে বিয়ে দিয়েছি সে ভালো আছে, সুখে আছে। আর ছোট দুই মেয়েকে ঢাকায় এক মাদ্রাসায় পড়াশোনা করাচ্ছি।’

নাছিমা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ গলাকাটা পুলস্থ এলাকায় নজরুল মিয়ার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করছি।

এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে এই প্রথম একজন নারীকে অটোরিকশা চালক হিসেবে দেখে অবাক যাত্রীরা। তবে অনেকে এ নারীকে কাজ করার সাহস যোগাচ্ছেন। অনেকে কৌতূহলবশত যাত্রী হয়ে তার রিকশায় উঠে পড়েন। আর যাত্রীদের সম্মান করে নাছিমা পৌছে দিচ্ছেন গন্তব্যে।

ইত্তেফাক/এসকে