বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’-তে রূপ নিয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড় দুপুর থেকে মধ্যরাতে উপকুলীয় এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ ভোলার মনপুরার দেড় লাখেরও বেশি বাসিন্দা আতঙ্কে রয়েছেন। দুপুরের পর থেকে বইছে দমকা হাওয়া। জনসাধারণকে সুরক্ষিত রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসন জরুরি ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ মোকাবেলায় প্রস্তুতি সভা করেছেন। জনসচেতনতায় উপজেলা প্রশাসন মেঘনা নদীর পাড়ে, বেড়ির ডালে বসবাসরত জনসাধারণকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ভোলার মনপুরা উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’-এর প্রভাবে রাত থেকে ঝোড়ো বৃষ্টি বইছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। মনপুরার দেড় লাখেরও বেশি লোক ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ আতঙ্কে ভুগছে। উত্তাল মেঘনায় ৭ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে মনপুরার সঙ্গে ভোলা ও ঢাকার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথে সব লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এই উপকূলের দেড় লাখেরও বেশি বাসিন্দা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাসিন্দাদের সতর্ক করতে ও নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্র যেতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা আওয়ামী লীগ লোকজন, সিপিপি কর্মীরা মাইকিং করছেন। মেঘনায় ধীরে ধীরে বাড়ছে পানি।
ভোলায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ
‘মিধিলি’ ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ভোলা থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটের লঞ্চ চলাচল আজ শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। আবহাওয়া ভালো না হওয়া পর্যন্ত দুপুর থেকে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ফেরি ব্যবস্থাপক মো. পারভেজ।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মিধিলি’ ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ভোলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মিধিলি মোকাবেলায় ভোলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলায় ৮৬৯টি আশ্রয় কেন্দ্র, ১২টি মুজিব কিল্লা, ১৩ হাজার ৮৬০ সিপিপি সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তারা আগামীকাল (শনিবার) থেকেই কাজ শুরু করবেন। প্রায় ২০ লাখ টাকা নগদ টাকা ও দুর্যোগের জন্য ৩৪১ মেট্রিক টন চাল রয়েছে।’
বিআইডব্লিউটিএ, ভোলার সহকারী পরিচালক মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মিধিলি ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ভোলা থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটের লঞ্চ চলাচল শুক্রবার সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।’
