ভিলেন হয়ে থাকবেন ডি কক

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৩, ১০:১০

দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ২১২ রান তাড়া করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য তখন আর ৯ রান বাকি। কিন্তু ৪৫তম ওভারে এইডেন মার্করামের বলে অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্সের ক্যাচটা ফেলে দেন কুইন্টন ডি কক। দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ক্রিকেটারের চোখ-মুখ দেখে মনে পড়ে যাচ্ছিল হার্শেল গিবসকে!

১৯৯৯ সালের ১৭ জুন। সেবারের বিশ্বকাপের  সেমিফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ইডেন গার্ডেন্সের এই ম্যাচের মতো সেবারও চাপের মুখে স্টিভ ওয়াহের লোপ্পা ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন গিবস। তবুও এবার গ্লাভস হাতে এমন রেকর্ড গড়লেন, যা মহেন্দ্র সিং ধোনি কিংবা অ্যাডাম গিলক্রিস্টও করতে পারেননি।

বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক স্টিভ পরবর্তী সময় বলেছিলেন, ‘ও হে, তুমি তো বিশ্বকাপটাই ফেলে দিলে!’ প্যাট কামিন্স এই প্রোটিয়া কিপারকে তেমন কিছু বলে চিমটি দিয়েছিলেন বলে জানা নেই। তবে ম্যাচের শেষে ডি ককের বডি ল্যাংগুয়েজ বলে দিচ্ছিল, ’চোকার্স’ তকমা নিয়ে ফের একবার বিদায় নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসে তিনি ট্র্যাজিক নায়কদের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেললেন। গোটা ম্যাচে যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডাররা একাধিক ক্যাচ ফেলেছেন। তবু কামিন্সের ফেলে দেওয়া ক্যাচ যেন ডি ককের জীবনে সব সময় বিঁধে থাকবে। আজীবন ভিলেন হয়ে থাকবেন  কক।

এবারের বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই জানিয়েছিলেন এক দিনের ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা। সেইমতো অজিদের বিরুদ্ধে এই ম্যাচটাই ছিল ৫০ ওভারের ক্রিকেটে তার শেষ ম্যাচ। কিন্তু বিদায়ী ম্যাচ মোটেও সুখের হলো না। ১০ ম্যাচে ৫৯৪ রান করে সেরা ব্যাটারদের তালিকার দ্বিতীয়স্থানে রয়েছেন ডি কক। গড় ৫৯.৪০। সর্বোচ্চ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৪০ বলে ১৭৪ রান। ১০৭.০২ স্ট্রাইক রেট বজায় রেখে করেছেন ৪টি শতরান।

তবুও অজিদের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের শেষ এক দিনের ম্যাচে রান পেলেন না। এক দিনের ক্রিকেটে জশ হ্যাজেলউডের বলে এই নিয়ে অষ্টমবার আউট হয়ে ফেরার সময় তার নামের পাশে মাত্র ৩ রান! টুর্নামেন্টে সবচেয়ে সফল উইকেটকিপার হিসেবে ২০টি আউটের সঙ্গে যুক্ত ডি কক। তার সবচেয়ে কাছের লোকেশ রাহুল। ভারতের উইকেটকিপার ১৬টি ডিসমিসালের সঙ্গে যুক্ত।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম উইকেটকিপার হিসাবে এক আসরে ৫০০ রান ও ২০ ডিসমিসালের ডাবল রেকর্ড গড়লেন ডি কক। এবং অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও এম এস ধোনিকে ছাপিয়ে গেলেন। কিন্তু শেষটা আর সুখের হলো কোথায়! মোক্ষম সময় ক্যাচ ফেলে দিয়ে আজীবন ভিলেন হয়ে থাকলেন ডি কক।

ইত্তেফাক/এএম