ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলার ডুবির ঘটনায় একটি ট্রলারের ৮ জেলে নিখোজ রয়েছে। এছাড়া, একটি ট্রলারসহ ২৫ জেলের সন্ধান এখনও যায়নি।
আজ শনিবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী।
এর আগে শুক্রবার সকালে বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পরে আব্দুর রহিম খলিফার মালিকানা এফবি মায়ের দোয়া নামে একটি ট্রলার ১২ মাঝিমাল্লা নিয়ে ডুবে যায়।
এর মধ্যে ৪ জন উদ্ধার হলেও বাকি ৮ জনের হদিস মেলেনি। এছাড়া মোহাম্মদ রফিকের মালিকানা এফবি এলাহি ভরসা ও আনোয়ারের মালিকানাধীন এফবি তামান্না ট্রলারসহ ৩১ জেলেসহ নিখোঁজ ছিল। পরে সন্ধ্যার মধ্যেই তামান্না ট্রলারসহ ১৪ জেলের সন্ধান মিলেছে।
ফিরে আসা জেলেরা জানান, শুক্রবার ভোরে উপকূলে আসার চেষ্টা করতে গিয়ে হঠাৎ একটি বড় ঢেউ এসে ট্রলারটির ওপর আছড়ে পড়ে এবং ট্রলারটি ডুবে যায়। এরপর আমরা সাগরে ভাসতে ভাসতে একটি ট্রলার দেখে চিৎকার দিলে তারা আমাদের ৪ জনকে উদ্ধার করে মহিপুর নিয়ে আসে। বাকি ৮ জেলে কোথায় আছেন সেটি নিশ্চিতে অসমর্থ হয়েছেন তারা।
ফিরে আসা জেলেরা হলেন নুরুজ্জামান মুন্সি, আজগর মিয়া, মাসুম ও রাজিব। নিখোঁজ জেলেরা হলেন কালু মাঝি, জাফর, মজিবুর, ইউসুপ, ছত্তার, নাদিম, বেল্লাল ও ইয়াসিন। তাদের সবার বাড়ি পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকায়।
নিখোজ এফবি এলাহি ভরসা ট্রলারের মালিক ও জেলেদের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা অবস্থায় অনেক ট্রলার ডুবে গেছে। এরই মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি ট্রলার। এখনও একটি ট্রলারসহ ২৫ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। জেলে ও ট্রলার খুঁজতে মালিক সমিতির দুটি ট্রলার পাঠানো হয়েছে।’
পাথরঘাটা ইউএনও মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, ‘নিখোঁজ ট্রলার ও জেলেদের উদ্ধারের জন্য উপজেলা প্রশাসন, নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও ট্রলার মালিক সমিতির যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

