ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১৩তম আসরের পর্দা নামবে আজ। আসরের ফাইনালে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বেলা আড়াইটায় মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ভারত ও পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেও এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। সেখানে অজিদের হারিয়েই দুর্দান্ত বিশ্বকাপ শুরু করেছিল স্বাগতিকরা।
এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচও হারেনি ভারত অপরদিকে অস্ট্রেলিয়া প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আসর শুরু করেছিল। তবে এবারের ফাইনালের লড়াই দুই দলকে মনে করাচ্ছে ২০০৩ বিশ্বকাপকে। কেননা সেই আসরেও দুর্দান্ত ফর্মে ছিল অস্ট্রেলিয়া এবং ভারত। শেষ অবদি ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল তারা। যেখানে ভারতকে ১২৫ রানে হারিয়ে নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।
শিরোপা অজিরা জিতলেও আসরের সেরা রান সংগ্রহক ছিলেন ভারতীয় শচীন টেন্ডুলকার। এই আসরেও সর্বোচ্চ রান সংগ্রহক ভারতের বিরাট কোহলি। যদি আজকে শিরোপা জিতে যায় ভারত তাহলে শচীন যা পারেননি তা করে দেখাতে পারবেন বিরাট।
দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়া ২০০৩ বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। ঐ আসরে তিনি ১১ ইনিংসে ৬১.১৮ গড় এবং ৮৯.২৫ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ৬৭৩ রান। এর মধ্যে এক ম্যাচেই তিনি করেছিলেন সর্বোচ্চ ১৫২ রান। সব মিলিয়ে ঐ আসরে তিনি ১টি শতরান এবং ৬টি অর্ধশতরানের ইনিংস খেলেছিলেন।
এত ভালো পারফরম্যান্স করার পরও সেইবারের বিশ্বকাপের ট্রফি ছুঁতে পারেননি শচীন। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৫৯ রানের পাহাড় সমান সংগ্রহ করে। জবাবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৩৪ রানেই ১০ ওভার ৪ বল বাকি থাকতে অলআউট হয়ে যায় ভারত। সেই ম্যাচে শচীনের ব্যাট হাসেনি একদমই।
এদিকে এবারের আসরে ভারতীয় ব্যাটার বিরাট কোহলিও রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। ফাইনালের আগেই তিনি আসরের সর্বোচ্চ সংগ্রহক হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেছেন। শুধু আসরে বললে ভুল হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরের সর্বোচ্চ সংগ্রহক এখন তিনি। তিনি ১০১.৫৭ গড় এবং ৯০.৬৮ স্ট্রাইকরেটে ১০টি ম্যাচ খেলে তার সংগ্রহ ৭১১ রান। তিনি এই টুর্নামেন্টে এখনো পর্যন্ত ৩টি শতরান এবং ৫টি অর্ধশতরানের ইনিংস খেলেছেন। তবে ২০০৩ সালে শচীন টেন্ডুলকার আসরের সর্বোচ্চ সংগ্রহক হয়েও ট্রফি হাতে তুলতে পারেননি, বিরাট কোহলি এবারের পারেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে ফাইনালের আগেই চলমান বিশ্বকাপে একাধিক রেকর্ডে শচীনকে পেছনে ফেলেছেন বিরাট।
সবশেষ ম্যাচে তো শচীনের সামনেই ওয়ানডে ফরম্যাটে ৫০তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে তাকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন বিরাট কোহলি। এরপর শচীন এক পোস্ট দিয়ে বলেছিলেন, ‘প্রথম যখন তোমাকে ড্রেসিংরুমে দেখি তোমাকে বাকি সতীর্থরা প্র্যাংক করেছিল আমার পা ছুঁতে বলে। আমি সেই দিন হাসি থামাতে পারিনি। তবে সেই সময় তোমার প্যাশন ও স্কিল দিয়ে তুমি আমার হৃদয় স্পর্শ করেছিলে। আমি খুব খুশি যে সেদিনের তরুণ ছেলেটা এখন বিরাট প্লেয়ার হয়ে গিয়েছে। একজন ভারতীয় আমার রেকর্ড ভাঙল, এর থেকে বেশি খুশি আমি আর হতে পারতাম না। এবং এটা হলো বড় মঞ্চে, বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে, আমার ঘরের মাঠে।’
তার প্রতিক্রিয়াতে বিরাট বলেছিলেন, ‘মহান মানুষটা (শচীন) আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এটা একটা স্বপ্নের মতো। আমাদের জন্য বড় ম্যাচ এবং আমি আমার কাজটা করেছি, যাতে দলের বাকিরা নিজেদের খেলাটা খেলতে পারে। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল দলের জয়। আমাকে বিশ্বকাপে একটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আমি সেটা গভীরে গিয়ে করতে চাই। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলা এবং দলের জন্য খেলা, এটাই আমার ধারাবাহিকতার চাবিকাঠি।’

