টানেল উদ্বোধনের পর পারকি সৈকতে বেড়েছে পর্যটক

পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকার অভিযোগ

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৩, ০২:০০

বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনের পর থেকে টানেলের আনোয়ারা প্রান্তে আর্থসামাজিক নানাবিধ পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে বাড়ছে বাণিজ্যিক স্থাপনা। গড়ে উঠছে নতুন নতুন উন্নত মানের হোটেল-মোটেল। গত ২৮ অক্টোবর টানেল উদ্বোধনের পর থেকে আনোয়ারা অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র পারকি সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের আনাগোনা বেড়েছে কয়েক গুণ। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের মুখর হয়ে যায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত এই সৈকতটি।

সরেজমিনে পারকি সমুদ্রসৈকত ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা টানেল হয়ে আনোয়ারা সমুদ্রসৈকতে আসছেন। সৈকত জুড়ে স্থানীয় পর্যটকের চেয়ে দূরদূরান্তের পর্যটক ছিল বেশি। তবে টানেল উদ্বোধন ঘিরে পর্যটক বাড়লেও পারকি সমুদ্রসৈকত নিয়ে পর্যটকদের অভিযোগ ছিল অহরহ।

প্রাইভেট কারে চট্টগ্রাম নগরীর আলকরন এলাকা থেকে আসা মুজিবুর রহমান নামের এক জন বলেন, মূলত টানেল উদ্বোধন হওয়ায় টানেলের ভেতর দিয়ে আলকরণ থেকে পারকি সৈকতে এসেছি। কিন্তু এখানে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এখনো গড়ে ওঠেনি। টানেল উদ্বোধনের ফলে আনোয়ারা এখন উপশহর। তাই আনোয়ারার পর্যটন খাতগুলো নিয়ে পর্যটন করপোরেশনের আলাদাভাবে নজর দেওয়া উচিত বলেও তিনি মনে করেন।

পরিবার নিয়ে সীতাকুণ্ড থেকে আসা মোরশেদুল আলম নামের আরেক পর্যটক বলেন, এখানে বিচে নামার জন্য ভালো সড়ক নেই। ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে বিচে নামতে হয়। অথচ উপজেলা প্রশাসন থেকে পার্কিংয়ের নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিচের ঝাউগাছগুলো হেলে পড়ে আছে। এতে সৈকত তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারাতে বসেছে।

আসমাউল হুসনা নামের এক তরুণী জানান, প্রায় ছুটিতেই আমি পারকি সমুদ্রসৈকত আসি। এখানে আসলে মন ভালো হয়ে যায়। এবার মূলত টানেল দেখার উদ্দেশে আসা। তিনি জানান, আনোয়ারা উপজেলা দিনকে দিন উন্নত হচ্ছে। এর সঙ্গে পারকি সমুদ্রসৈকতটিও পর্যটক বান্ধব করা জরুরি হয়ে পড়েছে। পারকি বিচের দায়িত্বে থাকা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পারকি সমুদ্রসৈকতে নামার তিনটি রাস্তা রয়েছে। যার একটিও ঠিক নেই। তাই গাড়ি নিয়ে বিচ এরিয়ায় নামতে পারে না পর্যটকেরা। বিচের রাস্তা, লাইটিংয়ের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা পরিষদ বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পারকি বিচ পরিচালনা কমিটির সদস্য এম এ কাইছুম শাহ্ জানান, টানেল উদ্বোধনের পর থেকে পারকি সৈকতে পর্যটক বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, পর্যটকদের যে সমস্ত অভিযোগ রয়েছে সেগুলো আমি ইউএনওকে জানাব। আর পারকি সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি, ধীরে ধীরে সম্ভাবনাময় এই সৈকতকে পর্যটকদের জন্য উপযোগী করে তোলার সব ধরনের প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বিচের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কর্ণফুলী জোনের এসিসট্যান্ট কমিশনার (এসি) আরিফ হোসাইন বলেন, ঈদ এবং ছুটি ছাড়া পারকি সমুদ্রসৈকতে তেমন একটা পর্যটকের আনাগোনা ছিল না। কিন্তু টানেল উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিদিনই এখানে পর্যটক আসছে। আমরা বিচের শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে সব সময় তৎপর থাকি। যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিচে বাইক নামায় তাদের জরিমানাসহ গাড়ি জব্দ করা হচ্ছে। এছাড়াও পর্যটকদের যেকোনো অভিযোগ পেলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এই বিষয়ে নজরদারি রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম