এক যুগ আগে যেখানে শেষবার বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল ভারত সেখানে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমে গত ১৫ নভেম্বর ওয়ানডে ফরম্যাটে ৫০তম শতরানের ইনিংস খেলে দেশটির কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকারকে পেছনে ফেলেছেন বিরাট কোহলি। আর বিরাটের এই কীর্তি মাঠে থেকেই উপভোগ করেছিলেন শচীন।
ঐ ম্যাচের পর বিরাটের প্রশংসা করে একটি পোস্ট দেন নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে। তবে এটি করেই ক্ষান্ত হননি তিনি গতকাল আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে তো ফাইনাল ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নিজেই কোহলির জন্য উপহার নিয়ে হাজির হন এই ‘মাস্টার ব্লাস্টার’।
রবিবার ১৩তম ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে কোহলিকে উপহার দেওয়ার মুহূর্তের একটি ভিডিও আইসিসি তাদের ব্রডকাস্ট চ্যানেলে শেয়ার করেছে। সেখানে দেখা যায়, একটি সোনালি রঙের ব্যাগ হাতে মাঠে হাজির হন শচীন। এ সময় বিরাটও এগিয়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন। পরে তিনি কোহলির হাতে উপহারের ব্যাগটি দিয়ে চলে যান।
পরে জানা যায়, ব্যাগে করে শচীন একটি অমূল্য উপহার নিয়ে এসেছিলেন কোহলির জন্য। যে জার্সি পরে শচীন নিজের ক্যারিয়ারের শেষ ওডিআই ম্যাচটি খেলেছিলেন, সেটিই তিনি এই ব্যাগে করে কোহলির জন্য নিয়ে এসেছিলেন। জার্সিতে রয়েছে তার সইও। সঙ্গে কিছু ছবিও। এছাড়া রয়েছিল একটি শুভেচ্ছা বার্তাও, যেখানে কোহলির উদ্দেশ্যে লিখা ছিল, ‘বিরাট, তুমি আমাদের গর্বিত করেছে।’ কোহলি যখন এই উপহার খুলছিল সে সময় তাকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিল ভারতীয় দলের খেলোয়াড় আর কোচিং স্টাফরা। সবাই উপহার দেখে খুশি হয়েছিল। এ সময় হাসতে হাসতে সেই জার্সি নিয়ে পোজ দিতে দেখা গিয়েছে ‘চেজমাস্টার’কে।
এদিকে স্মরণীয় একটি আসর কাটিয়েছে এবার বিরাট কোহলি। ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন তিনি। করেছেন ওয়ানডে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এরমধ্যে একাধিক রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছিলেন। তবে সব থেকে বড় কীর্তি যেটি ছিল সেটি করেছিলেন গত বুধবার। ঐ ম্যাচে বিরাট নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১১৩ বলে ১১৭ রানের ইনিংস খেলে।
এতে করে ওয়ানডে ফরম্যাটে শতরানের ইনিংস খেলার কীর্তিতে ছাড়িয়ে যান শচীনকে। পরে তার প্রশংসা করে ‘মাস্টার ব্লাস্টার লিখেছিলেন, ‘ভারতের ড্রেসিংরুমে তোমার সঙ্গে যখন প্রথম দেখা হয়েছিল, সতীর্থরা তোমাকে মজা করে বলেছিল আমার পা ধরে দোয়া নিতে। তাতে নাকি তোমার ক্যারিয়ার ভালো হবে। এটাই নাকি দলের ড্রেসিং রুমের নিয়ম। তুমি সেই ইয়ার্কি না বুঝে আমার পা ধরতে গিয়েছিলে। আমি হাসি থামাতে পারিনি। আজ তুমি আমার মন ছুঁয়ে নিলে। তোমার প্রতিভা এবং খেলার প্রতি আবেগ আমার মন ছুঁয়ে গিয়েছে। সেই বাচ্চা ছেলেটা আজ বিরাট হয়ে গিয়েছে। তোমার এই অর্জনে আমি অনেক খুশি।’
তার জবাবে বিরাটও বলেছিলেন, ‘গ্যালারিতে শচীন পাজি ছিলেন। সেই মুহূর্তে কেমন অনুভূতি হচ্ছিল, এটা আমার পক্ষে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। গ্যালারিতে আমার জীবনসঙ্গী। আমার হিরো। সবাই বসেছিলেন। আর ওয়াংখেড়ের এত ভক্ত। না, সেই মুহূর্তের অনুভূতি আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।’

