চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য এ পর্যন্ত পার্টির কার্যালয়ে ৮ জন মনোনয়ন ফরম জমা করেছে।
জানা যায়, গত ১৫ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য এ পর্যন্ত স্থানীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আল মামুন, চট্টগ্রাম আদালতের মহানগর সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দীন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমদ মঞ্জু, ব্যারিস্টার জিন্নাত আলী চৌধুরীসহ দুইজন ব্যবসায়ী লায়ন মোহাম্মদ ইমরান ও মো. পারভেজ হোসেন সান্টু মনোনয়ন ফরম নিয়ে জমা দেয়।
দলীয় মনোনয়ন পেতে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়ে প্রার্থীরা জোড় লবিং শুরু করে দেয়। তবে অঞ্চলে একটি প্রবাদ বাক্য ঘুরে ফিরে সকলে মুখে মুখে ভেসে আসে টাকার খেলা নিয়ে। কিন্তু এবার টাকার খেলায় কাজ হতেও না পারে। কারণ অনেক আগে থেকে দলীয়ভাবে একটি ঘোষণা দেওয়া হয় এবার যারা দলের জন্য ত্যাগী ও তৃণমূল থেকে উঠে এসে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছে। এমন ব্যক্তিকে নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হবে। সীতাকুণ্ডবাসীসহ আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও সেটাই আসা করে।সেই দিক থেকে হিসাব নিকাশ করতে গিয়ে এই জনপদের জনগণভাবে বাকের ভূঁইয়া মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য। সে নিজের জীবনবাজি রেখে দলের জন্য আজীবন লড়াই করে দলকে টিকিয়ে রাখে। নিজের সহায় সম্পত্তি বিক্রি করে দলের নেতা-কর্মীদের জন্য অর্থ বিলিয়ে দেয়।
এলাকাবাসী জানান, বাকের ভূঁইয়া টানা ৫ বার দলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক থাকাসহ বর্তমানে উপজেলা সভাপতি হিসাবে গত ৪ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছে। এমন কি একবার সফল সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিল।
তার দলীয় নেতা-কর্মীরা বলেন, বাকের ভূঁইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় তার দ্বারা কোনো শিল্পপতি হোক। কোনো ব্যবসায়ী হউক অথবা সাধারণ ব্যক্তি হোক কেউ হয়রানির শিকার হয়নি। তাই তাকে দলীয় নমিনেশন দেওয়ার জন্য পৌরমেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বদিউল আলম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ও বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান মহসিন জাহাঙ্গীর, সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম রব্বানী, সহসভাপতি ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজিজুল হক, সহসভাপতি মুরাদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বাহার, উপজেলা যুগ্ন সম্পাদক সাঈদ মিয়াসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী আশা করে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা কারও কথায় কান না দিয়ে তাকে এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী দিবে। কারণ তৃণমূল থেকে বাকের ছাড়া আওয়ামী লীগের বিকল্প কেউ নেই। অপরদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য দিদারও ১৫ বছর ধরে এলাকায় সরকারিভাবে বিপুল পরিমাণ কাজ করে মানুষের আস্থা অর্জন করে। তার আমলে কেউ চাঁদাবাজি করতে সাহস করেনি। তা ছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মামুনও তার বাবা প্রয়াত বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবিএম আবুল কাসেমের ইমেজ ধরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
এদিকে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার কয়েক মাস আগে থেকে তৃণমূলবিহীন বেশ কয়েক জন রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী নির্বাচনী নৌকার টিকেট নিতে বিভিন্ন ছোট খাট প্রোগ্রাম ও দান সদকা দেওয়া শুরু করে। যদি কোনো রকমে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে যায়। তাহলে তো কোনো কথাই নেই। আর এ আশাই তফসিল ঘোষণার পর দলীয় ফরম নিয়ে পূরণ করে জমা দেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমান হাটে বাজারে ও গ্রাম্য চায়ের দোকানগুলোতে সাধারণ ভোটারদের মাঝে আলোচনা পর্যালোচনা চলছে তৃণমূলের একমাত্র ত্যাগী নেতা বাকের ভূঁইয়াকেই নিয়ে। দলের জন্য তার ত্যাগকে মূল্যায়ন করে তাকেই দলীয় মনোনয়ন দিলে তার প্রতি ন্যায় বিচার হবে। কারণ সাধারণ ভোটাররা আলোচনা করছে প্রত্যক জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়ে বাকের ভূঁইয়া টাকার কাছে হেরে যায়। আর এটাই তার নিয়তির খেলা। সুতরাং তৃণমূলের ভোটাররা আশা করে দলের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী কারও কথা না শুনে এবার তাকে নৌকার মাঝি বানাবে।
অপরদিকে জাতীয় পার্টি থেকে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. দিদারুল কবির দিদার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে।
