নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত-সমালোচিত বিএনপি থেকে বহিস্কৃত বর্তমানে তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার এবার নৌকার মাঝি হয়ে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
কারণ তৃণমূল বিএনপির প্রতীক ‘সোনালী আঁশ’ নিয়ে নির্বাচন করলে জামানত হারাবেন তিনি, এমন আলোচনা নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র। যদিও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদনও করেছেন তৃণমূল বিএনপি।
বুধবার (২২ নভেম্বর) তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, আমাদের দলীয় প্রতীকের বাইরে যদি নৌকা প্রতীক নিয়ে কেউ নির্বাচন করতে চায়, তাতে কোনো সমস্যা নেই।
এদিকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, তৃণমূল বিএনপির অস্তিত্ব নারায়ণগঞ্জে নাই। এটা প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার ঘোষণার মাধ্যমে। কারণ তৃণমূল বিএনপি তাদের দলীয় প্রতীক ‘সোনালী আঁশ’ নিয়ে নির্বাচন করলে দলের মহাসচিব তৈমূর আলমসহ সারাদেশে তৃণমূল প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা জানান, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বিআরটিসির চেয়ারম্যান করা হয় তৈমূর আলমকে। ওই সময়ে যোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন প্রয়াত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। নাজমুল হুদার সঙ্গে গভীর সখ্যতার কারণে বিআরটিসির চেয়ারম্যান হতে পেরেছিলেন তৈমূর। দীর্ঘ ৫ বছর দায়িত্ব পালন করার সময় নাজমুল হুদার সঙ্গে তৈমুর আলমের ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়ে যায়। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদার আতাত থাকার অভিযোগে বিএনপি থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়। পরে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আতাত করে তৃণমূল বিএনপি গঠন করেন নাজমুল হুদা। তখন তৈমূর আলম খন্দকারেরও তৃণমূলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চতুর তৈমূর আলম কৌশলে বিএনপির সঙ্গে মিশে থাকেন। বিএনপিতে যদি কখনও তার অবস্থা খারাপ হয় তাহলে তৃণমূল বিএনপি তো আছে। সেখানে তিনি যাবেন। তাই সেখানেই গিয়েছেন।
তারা আরও বলেন, তাছাড়া ক্ষমতালোভী তৈমুর আলম বিএনপিতে দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ পদ পেলেও দলকে সাংগঠনিকভাবে সামান্যতম শক্তিশালী করতে পারেননি। ফলে নারায়ণগঞ্জের বিএনপির নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশের কাছে তিনি অপছন্দীয় ছিলেন।
বিএনপি ও বিভিন্ন তথ্য মতে, তৈমূর আলম খন্দকার বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রয়াত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আলী আহাম্মদ চুনকার (মেয়র আইভীর বাবা) অনুসারী ছিলেন। এবং চুনকার হাত ধরেই তার রাজনীতিতে আসা। পরে আলী আহাম্মদ চুনকা নারায়ণগঞ্জ ঠেলাগাড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি করেন তৈমূর আলমকে। কয়েক বছর পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে এক পর্যায়ে ২০০৩ সালে তৈমুর আলম নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হন। এরপর ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ২০১১ সালের ৩০শে অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র দলীয় মেয়র প্রার্থী হওয়ার পর ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসেন। পরে তাকে বিএনপি চেয়ারপাসনের ৬৩ নাম্বার রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়। এরপর ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর তৈমূর আলম পুনরায় জেলা বিএনপির আহবায়ক হন। কিন্তু সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেননি দীর্ঘ এই সময়ে। একপর্যায়ে ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মেয়র প্রার্থী হন তিনি। ফলে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। এরপর দেড় বছর দলের বাইরে থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেন তৈমূর আলম।
