বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

জাপার ‘হঠাৎ বিশ্বাসে’ বিস্ময় দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৩, ১৪:৪৭

‘বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়’- জাতীয় পার্টির (জাপা) শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে এতদিন নিয়মিত এমন কথা বলা হলেও হঠাৎ নির্বাচনে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানামুখী আলোচনা। জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের পক্ষে গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনসহ সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। তাদের এই আশ্বাসের কারণে, তাদের প্রতি আমাদের বিশ্বাস সৃষ্টি হওয়ার কারণে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি।’ এই ‘হঠাৎ বিশ্বাস’ সৃষ্টি হওয়া নিয়ে নানা কথা বলাবলি করছেন দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা।

রাজধানীর বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে চলছে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমার কার্যক্রম। গতকাল বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দলের নেতাকর্মীদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা নিয়ে। কেন, কী কারণে, কীভাবে- এই ঘোষণার সিদ্ধান্ত হলো; তা নিয়ে বিশ্লেষণের অন্ত নেই। কাউকে কাউকে নানা সন্দেহ-সংশয়ের কথাও বলতে শোনা যায়।

এই পরিবেশের মধ্যেই বনানী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনাদের সঙ্গে কী কোনো টাকার লেনদেন হয়েছে’। জবাবে চুন্নু বলেন, ‘না, এরকম কিছু নেই।’

জাপা মহাসচিব বলেন, পার্টিতে কোনো বিভেদ নেই। জি এম কাদেরের নেতৃত্বে পার্টি ঐক্যবদ্ধ আছে। জাপা নিজস্ব রাজনীতি নিয়ে এগিয়ে চলর্বাছে। দলীয় সিদ্ধান্তেই জাপা নিচনে যাচ্ছে। আমরা নিরপেক্ষ ভোটের একটি পরিবেশ চেয়েছি। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন মহল আমাদের আশ্বস্ত করেছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তারা বলেছে, যে কোনো মূল্যেই নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখবে। এই আশ্বাসের জন্যই আমাদের নির্বাচনে অংশ  নেওয়ার ঘোষণায় দেরি হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে চুন্নু বলেন, ৩০০ আসনেই নিজস্ব প্রতীক ‘লাঙ্গল’ নিয়ে নির্বাচন করবে। কারণ কোনো জোটে যেতে আমরা ইসিকে চিঠি দেইনি জাপা। রাজনীতিতে বিভিন্ন কৌশল থাকে। আমরা আমাদের নিজস্ব কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাবো। তিনি বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের কথা না শুনলে কী হবে, তা আইনে বলা নেই। কথা না শুনলে তড়িত্ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান না থাকায় নির্বাচন কমিশন এখন দাঁত ছাড়া বাঘ। জাপা মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন যেভাবে সিডিউল ঘোষণা করেছে, তাতে সংলাপের সুযোগ আছে। সবাই এক টেবিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারবে।

ইত্তেফাক/এসকে