৩৩ একর ভূমিতে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে কোনো বাধা নেই আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের। হাইকোর্টের রিভিউর রায়ের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুইটি আপিল নিষ্পত্তি করে দিয়ে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ গত বুধবার এই রায় দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন—বিচারপতি বোরহান উদ্দিন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো. মোরসেদ ইত্তেফাককে বলেন, আপিল বিভাগের এই রায়ের ফলে ৩৩ একর ভূমিতে আবাসন প্রকল্প কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে আশিয়ান সিটি। একই সঙ্গে হাইকোর্টের রিভিউর রায়ও বাতিল করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।
আশিয়ান সিটির কৌঁসুলি আহসানুল করিম বলেন, আপাতত প্রথম পর্যায়ে ৩৩ একর ভূমিতে প্রকল্প কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে আশিয়ান সিটি। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর অনুমোদন নিয়ে নিষ্কণ্টক জমিতে প্রকল্প কাজ করার সুযোগ থাকবে বলে মনে করি।
প্রসঙ্গত, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিপরীত দিকে হজ ক্যাম্পসংলগ্ন দক্ষিণখান থানার আশকোনা ও কাওলা এলাকায় অবস্থিত আশিয়ান সিটি আবাসিক প্রকল্প। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে হাইকোর্টের একটি বৃহত্তর বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে আশিয়ান সিটি আবাসিক প্রকল্পকে অবৈধ বলে রায় দেয়। এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে হাইকোর্টে রিভিউ আবেদন করে আশিয়ান সিটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। ২০১৬ সালে আদালত রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করে রায় দেয়। নতুন এ রায়ে ২০১৪ সালে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বাতিল করা হয়। এই রায়ে বৈধতা দেওয়া হয় আশিয়ান সিটি প্রকল্পের।
এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ এবং পরিবেশ আইনবিদ সমিতিসহ (বেলা) রিটকারী আট প্রতিষ্ঠান। আপিলের পক্ষে আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও প্রবীর নিয়োগী, আশিয়ান সিটির পক্ষে আহসানুল করিম ও কামরুল হক সিদ্দিকী এবং রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো. মোরসেদ শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে ২২ নভেম্বর রায়ের জন্য দিন ধার্য করে দেয় আপিল বিভাগ। ধার্যকৃত দিনে গত বুধবার ঐ রায় ঘোষণা করে আপিল বিভাগ। রায়ের পর বেলার পক্ষ বলা হয়েছে, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রিভিউর রায় খারিজ করে দিয়েছে। এছাড়া আশিয়ান সিটি প্রকল্পটি ৩৩ একরের বেশি ভূমিতে বাস্তবায়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
প্র্রসঙ্গত, আশিয়ান সিটি আবাসিক প্রকল্পকে দেওয়া রাজউকের অনুমোদন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া আশিয়ান সিটির অবস্থানগত ছাড়পত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-সহ মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী আটটি সংগঠন ২০১২ সালে হাইকোর্টে রিট করে।
